📌 ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ঘুমাতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের জাতীয় সম্মেলনে তিনি সরকারের বিদেশনীতি ও আরএসএসের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন
ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ঘুমাতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নয়াদিল্লির মাভলঙ্কর হলে অনুষ্ঠিত ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর জাতীয় সম্মেলনে তিনি সরকারের বিদেশনীতি, আরএসএসের ভূমিকা এবং তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মোদি ও অমিত শাহকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ঘুমাতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন
- 📌 তিনি সরকারের বিদেশনীতি ও আরএসএসের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন
- 📌 তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলনকে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন
- 📌 অমিত শাহকে ‘চাণক্য’ ও ‘সর্দার পটেল’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন
📰 বিস্তারিত
বুধবার (১২ আগস্ট) নয়াদিল্লির মাভলঙ্কর হলে আয়োজিত ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাহুল গান্ধী। তিনি সরকারের বিদেশনীতি ও আরএসএসের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। রাহুল বলেন, যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজেদের ক্ষোভ ও মতামত তুলে ধরেছে। তার দাবি, এই আন্দোলন দেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘তাদের আর ঘুমোতে দেওয়া হবে না।’ তার অভিযোগ, সরকার যত দিন পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়ছে না, তত দিন আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অমিত শাহকে নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তার দাবি, একসময় শাহকে ‘চাণক্য’ এবং বর্তমান সময়ের ‘সর্দার পটেল’ হিসেবে তুলে ধরা হতো। এখন তিনি কোথায়—এমন প্রশ্নও তোলেন রাহুল। তার দাবি, প্রায় ২০ দিন অমিত শাহ সংসদে উপস্থিত হতে পারেননি।
বিদেশনীতির সমালোচনা করে রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বিদেশনীতি মানেই অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা। কিন্তু সেই সম্পর্কের বাস্তব ফল কী, সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি অভিযোগ করেন, যেসব বিদেশি রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে মোদি বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন, তারাই শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিপাকে ফেলছেন।
আরএসএসের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন রাহুল। তিনি বলেন, একসময় এই সংগঠনের সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ী, স্বর্ণকার ও দোকানদারদের একটি অংশের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু নোট বাতিল এবং ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ও পরিষেবা করের (জিএসটি) কারণে দেশের ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রাহুলের অভিযোগ, আরএসএস এখন আর ছোট ব্যবসায়ীদের সংগঠন নয়, বরং বড় পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
“ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন রাহুল। তার দাবি, ওই সময় ভারত চাইলে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। রাহুল বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—তিন দেশের সঙ্গেই ভারতের সম্পর্ক রয়েছে। তাই শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের সামনে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। আর নরেন্দ্র মোদি বিষয়টি ‘অবাক হয়ে দেখেছেন’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নয়াদিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাহুল গান্ধী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!