📌 কাতার ইরানের কাছে শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে সামরিক সংঘাত এড়াতে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের হুমকি দূর করার বিরল সুযোগ এসেছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরান-কাতার মতবিরোধ ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা এড়াতে কাতার ইরানের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ করেননি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার বিরল সুযোগ এসেছে। তবে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের ভবিষ্যত অজানা রেখে দাঁড়িয়েছে কাতারের প্রস্তাব এবং ট্রাম্পের সতর্কবার্তা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কাতার ইরানের কাছে শান্তি প্রস্তাবের খসড়া পৌঁছে দিয়েছে, সপ্তাহের শেষ নাগাদ জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান
- 📌 ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি আপনাদের তা বলতে পারব না। তবে যেকোনো কিছুই সম্ভব’ — ইরানে হামলার নির্দেশ দেবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ
- 📌 নেতানিয়াহু দাবি, ট্রাম্পের সাথে মিলে ইরানের হুমকি ‘চিরতরে’ দূর করার বিরল সুযোগ পেয়েছে ইসরাইল
- 📌 ইসরাইলে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা — নেতানিয়াহুর জোট পেতে পারে ৫৪টি আসন, বিরোধী জোট ৪৮টি
- 📌 হরমুজ প্রণালীতে ইরান-কাতার মতবিরোধ: ইরান বলেছে, কাতারকে ‘আগ্রাসীদের’ ভূখণ্ড ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে
- 📌 যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যের ১৬টি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে — আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে ফ্লাইট বাতিল হতে পারে
📰 বিস্তারিত
কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা গত রোববার ইরানের তেহরানে শান্তি প্রস্তাবের খসড়া পৌঁছে দিয়েছে। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইরান প্রস্তাবের জবাব দিতে পারে। প্রস্তাবে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাত দিনের একটি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিনই উভয় পক্ষকে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে কোনো দেশের নাম প্রকাশ না করে বলা হয়েছে, কয়েকটি দেশ চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার নির্দেশ দেবেন কি না, সে সম্পর্কে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি আপনাদের তা বলতে পারব না। তবে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’ মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান চুক্তি করতে চায়। তবে দেশটির নেতারা মার্কিন নির্বাচন পর্যন্ত আলোচনা পিছিয়ে দিতে পারেন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর মতে, আলোচনায় দেরি করলে ইরানের অবস্থার উন্নতি হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছি। তাদের আর্থিক ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছি। তাদের হাতে টাকা নেই। মূল্যস্ফীতি বিশ্বের সর্বোচ্চ, ৩০০ শতাংশ। সরকার শেষ। তবে দেখা যাক কী হয়।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ট্রাম্পের সাথে মিলে ইরানের হুমকি ‘চিরতরে’ দূর করার বিরল সুযোগ পেয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ৬৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৪টি আসন পেতে পারে। সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। স্বতন্ত্র আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসন ১৮। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। দুই পক্ষই সরকার গঠনের চেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও কাতারের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মাহমুদ মালেকি বলেন, কাতারের উচিত সদিচ্ছার পরিচয় দেয়া এবং তেহরানের ভাষায় ‘আগ্রাসীরা’ যাতে দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। এর আগে কাতারের গণমাধ্যম ও যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক ইব্রাহিম সুলতান আল-হাশমি হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ চলাচলের প্রতি সম্মান দেখাতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে সামরিক অভিযান শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বিদেশি সামরিক উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
"আমরা তাদের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছি। তাদের আর্থিক ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছি। তাদের হাতে টাকা নেই। মূল্যস্ফীতি বিশ্বের সর্বোচ্চ, ৩০০ শতাংশ। সরকার শেষ। তবে দেখা যাক কী হয়।"
তেহরানে ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক বৈঠককে আরাগচি সংলাপ জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, স্থায়ী সহযোগিতার জন্য পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীরাই আমাদের অগ্রাধিকার।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান (তেহরান), ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র (মেরিল্যান্ড), হরমুজ প্রণালী, মধ্যপ্রাচ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, আব্বাস আরাগচি, মাহমুদ মালেকি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ অক্টোবর, ৩০০ শতাংশ, ৬৬ শতাংশ, ১২০ আসন, ৫৪ আসন, ৪৮ আসন, ৬১ আসন, ১৬টি দেশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!