📌 রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এই আহ্বান জানান। এছাড়াও বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর ও আরসিইপি অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর, ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান — ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশে সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
- 📌 চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান — লিউ হাইশিং প্রধানমন্ত্রীর কাছে শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
- 📌 বেইজিং সফরের পর নতুন যুগের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঘোষণা — লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী — তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে।
- 📌 বিএনপি ও সিপিসির মধ্যে দলীয় যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য চীনের আমন্ত্রণ — লিউ হাইশিং বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
- 📌 বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর ও আরসিইপি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা — বৈঠকে এই দুটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল।
📰 বিস্তারিত
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এই সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া তাদের দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে এই কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং কৃষির উন্নয়নে অবদান রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকালে চীনের পক্ষ থেকে লিউ হাইশিং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে। লিউ হাইশিং প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের বিষয়টি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন বলে জানান।
বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। লিউ হাইশিং বলেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী। তিনি বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
"প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারিত হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, লিউ হাইশিং, শি জিনপিং, লি ছিয়াং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ লাখ রোহিঙ্গা, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!