📌 মিশিগানের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি চিকিৎসক পেশায় আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন এবং বামপন্থী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ ইতিহাস রচনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন। ৪২ বছর বয়সী এই চিকিৎসক-নেতা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আবদুল এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন মিশিগানের নির্বাচনে।
- 📌 তিনি ২০ শতাংশেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পরেও গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
- 📌 এল-সাইয়েদের প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও সামরিক বাজেটের পুনরায় বিতরণ।
- 📌 তিনি ইসরায়েলের গাজা অভিযানকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন এবং মার্কিন সামরিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।
- 📌 ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স এল-সাইয়েদকে সন্ত্রাসবাদী সমর্থক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
📰 বিস্তারিত
মিশিগানের নির্বাচনে আবদুল এল-সাইয়েদের বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে ইতিহাস রচনা করেছেন। এল-সাইয়েদের পেশা হলো চিকিৎসক, এবং তিনি এর আগে কোনো রাজনৈতিক পদে ছিলেন না। তবে তার নির্বাচনী প্রচারণা ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। তার ডেমোক্র্যাটিক সহকর্মী হ্যালি স্টিভেন্সের পরাজয়ের পর, এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে প্রচারণা তীব্র হয়ে ওঠে। স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করার পর তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণা আমাদের জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে কদর্য প্রচারণাগুলোর একটি ছিল।”
এল-সাইয়েদের জন্ম ১৯৮৪ সালে মিশিগানের ডেট্রয়েটের উপশহর রচেস্টার হিলসে। তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি বাবা ও সৎমা জ্যাকুলিন জনসনের কাছে বেড়ে ওঠেন। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি লাভ করেন এবং মহামারীবিদ্যায় বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০১৫ সালে তিনি ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান, যা জাতীয় সংবাদে শিরোনাম তৈরি করে।
২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। তবে তিনি গ্রেচেন হুইটমারের কাছে ২০ শতাংশেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। হুইটমার পরবর্তীতে দুই মেয়াদে গভর্নর নির্বাচিত হন। এল-সাইয়েদের বামপন্থী প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালিয়েছেন, যেখানে তিনি সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অর্থায়নের জন্য ধনকুবেরদের ওপর কর আরোপের দাবি তুলেছেন। তিনি ইসরায়েলের গাজা অভিযানকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন এবং মার্কিন সামরিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এল-সাইয়েদ বলেছেন, “আমি মনে করি না যে আমাদের বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অর্থায়ন করা উচিত। এরা হলো ইসরায়েল, মিশর, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমি চাই যে মার্কিন করের অর্থ বিদেশে কারও ওপর বোমা ফেলার পরিবর্তে স্কুল ও সুযোগ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হোক।”
"এটি এক কোটি মানুষের একটি রাষ্ট্র, যারা তাদের সরকারের কাছ থেকে আরও অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। আমি বরং সেই ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জনের ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছি, যাদের কথা আপনারা বলছেন না।"
"কর প্রদান করা এবং এটা জানা যে সেই টাকা অন্য কারো ও তাদের সন্তানদের ওপর বোমা ফেলার পরিবর্তে আপনার ও আপনার সন্তানদের জন্য ব্যয় করা হবে, এটা এতটা কঠিন হওয়া উচিত নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল এল-সাইয়েদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ বছর বয়স, ২০ শতাংশেরও বেশি ভোটের ব্যবধান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!