📌 সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলের যাত্রাপথে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে পাইলট আক্রান্ত হন। দু’জন পাইলটের সাহসিকতা ও ভারতীয় পাইলট স্মিথ মছারের নেতৃত্বে উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদিতে অবতরণ করে। দু’জন পাইলটকে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট সম্মাননা দিয়েছেন
মাঝ আকাশে মহাহট্টগোলের মাঝে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের পাইলট আক্রান্ত হন। ছুরিকাঘাতের শিকার হলেও তিনি নিয়ন্ত্রণ ছাড়েননি। পরে দু’জন পাইলট এগিয়ে এসে উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করান। ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবে যাত্রাপথে থাকা উড়োজাহাজে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। ওমানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় পাইলটের ওপর হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের দাবি, হামলাকারী যাত্রীসহ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এতে উড়োজাহাজটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৬ হাজার ফুট নিচে নামতে শুরু করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে পাইলট আক্রান্ত হন ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে।
- 📌 ১৭৪ জন যাত্রী থাকা উড়োজাহাজটি ওমানের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় হামলাকারী পাইলটের আক্রমণে বিপদে পড়ে।
- 📌 দু’জন পাইলটের সাহসিকতা — ফিজির হেনসন স্টিভেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রোয়ান টুথ — উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদিতে অবতরণ করান।
- 📌 আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ দু’জন পাইলট ও ক্রুদের সম্মাননা দিয়েছেন।
- 📌 হামলাকারী পাইলট ওমানের নাগরিক, কট্টর ইসলামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী বলে জানা গেছে।
- 📌 বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজে সহ-পাইলট ‘ক্র্যাশ এক্স’ দিয়ে আক্রমণ চালান।
📰 বিস্তারিত
মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজের একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলাকারী যাত্রীসহ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। আক্রান্ত পাইলট স্মিথ মছার (ভারতীয়) সাহসিকতার সাথে নিয়ন্ত্রণ ছাড়েননি। পরে উড়োজাহাজের যাত্রীর আসনে থাকা দু’জন পাইলট দায়িত্ব নেন। তারা হলেন ফিজির হেনসন স্টিভেন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রোয়ান টুথ। উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করা হয়।
গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল–নাহিয়ান হেনসন, রোয়ান ও উড়োজাহাজের অন্য ক্রুদের সম্মাননা প্রদান করেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অসীম সাহসিকতা দেখানোর জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরব থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীবোঝাই উড়োজাহাজটির ফেরত আসার পথেও হেনসন ও রোয়ান দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্মিথ মছার গুরুতর আহত হন। তাঁরও দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা দেওয়া হয়। হাতে ব্যান্ডেজ আর মাথায় সেলাই নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টকে বলেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে তাঁর মাস দুয়েক সময় লাগতে পারে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একজন মুখপাত্র জানান, স্মিথ মছার যখন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন, তখন তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলেন।
"হামলাকারীকে টেনে বের করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। আমি ইয়োক (বিমানের স্টিয়ারিং কন্ট্রোল) টেনে ধরি। উড়োজাহাজটিকে কিছুটা সোজা করা হয়।"
হামলাকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। তিনি ‘কট্টর ইসলামপন্থী’ মতাদর্শে বিশ্বাসী। তবে তাঁর কর্মকাণ্ডের পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানা যায়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই হামলার পরিকল্পনা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার দ্বারা অনুপ্রাণিত।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওমানের আকাশসীমা, সৌদি আরবের বিমানবন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হেনসন স্টিভেন, রোয়ান টুথ, স্মিথ মছার, মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল–নাহিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৭৪ জন যাত্রী, ৩০ সেকেন্ড, ১৬ হাজার ফুট, বোয়িং ৭৩৭ মডেল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!