📌 ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশি একজন সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিমদের প্রতি অবিশ্বাস ও ঘৃণা কতটা গভীর। ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একজন তরুণ মুসলিমের ব্যক্তিগত ঘটনাবলী ও সামাজিক প্রতিক্রিয়াগুলো এই প্রবণতার সাক্ষ্য দেয়
৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে স্মরণীয় এই দিনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিমদের প্রতি অবিশ্বাস ও নেতিবাচক ধারণার কতটা গভীরতা রয়েছে। একজন তরুণ মুসলিম হিসেবে ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার পরপরই সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ করা এই ব্যক্তির জীবনে ৯/১১-এর প্রভাব ছিল অপরিসীম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯/১১-এর পর পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদের ওপর অবিশ্বাস ও ঘৃণা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশি একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে
- 📌 ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টে একজন ব্যক্তি ল্যাপটপ ব্যাগ তল্লাশি করে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আপনার ব্যাগে বিস্ফোরক আছে কি?" — যা ২০ বছর পরও ৯/১১-এর প্রভাবের সাক্ষ্য দেয়
- 📌 আলাবামা অঙ্গরাজ্যের একজন শিক্ষার্থী বাংলাদেশি একজনকে জিজ্ঞেস করেছিল: "আপনার দেশের মানুষ সিরিয়ার আইএস সদস্যদের মতো কি?" — যা মুসলিমদের প্রতি গৎবাঁধা ধারণার প্রতীক
- 📌 নাম পরিবর্তন করে 'মোহাম্মদ' থেকে 'ডেলাওয়ার' রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যাতে পশ্চিমা সমাজে সহজে মিশে যাওয়া যায়
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষমূলক ভাষ্য এখনও প্রচলিত
- 📌 সিরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগকে একজন সাধারণ আমেরিকান হিসেবে প্রশংসা করেছেন, যা মুসলিম দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার উদাহরণ
📰 বিস্তারিত
৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিমদের প্রতি অবিশ্বাস ও নেতিবাচক ধারণার কতটা গভীরতা রয়েছে। একজন তরুণ মুসলিম হিসেবে ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার পরপরই সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ করা এই ব্যক্তির জীবনে ৯/১১-এর প্রভাব ছিল অপরিসীম। তিনি বলেছেন, "আমি যখনই বিমানে ভ্রমণ করি এবং অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তখন ৯/১১-এর জন্য দায়ী সেই মানুষগুলোর প্রতি আমার ঘৃণা আরও তীব্র হয়—যারা সেদিন প্রায় তিন হাজার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিল।"
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসীদের বিমান আঘাত হানার দৃশ্য দেখে তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি যে এই ঘটনা মুসলিম সম্প্রদায় ও ইসলাম সম্পর্কে অবিশ্বাস এবং নেতিবাচক ধারণার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেছেন, "মুসলমানদের সবাইকে সন্ত্রাসী মনে করার মতো গতানুগতিক ও নেতিবাচক ধারণার কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলোও গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল।"
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কারবনডেলে একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী হিসেবে আসার কিছুদিন পর, তিনি একটি ল্যাপটপ ব্যাগ নিয়ে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন। সেখানে একজন ব্যক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আপনার ব্যাগে কোনো বিস্ফোরক আছে কি না?" তিনি বলেছেন, "৯/১১-এর প্রায় দুই দশক পরও আলাবামা অঙ্গরাজ্যের একজন শিক্ষার্থী আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, আমার জন্মভূমি বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষেরা সিরিয়ার আইএস সদস্যদের মতো কি না। এটি কোনো নির্দোষ প্রশ্ন ছিল না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার আরবি নামের কারণে আমার শিক্ষার্থী আমার উদ্দেশে এই প্রশ্নটি করেছিল।"
নাম পরিবর্তন করে 'মোহাম্মদ' থেকে 'ডেলাওয়ার' রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যাতে পশ্চিমা সমাজে সহজে মিশে যাওয়া যায়। তিনি বলেছেন, "আমেরিকার রক্ষণশীল দক্ষিণ অঞ্চলে এক দশক কাজ করার সুবাদে আমার অনেক রক্ষণশীল বন্ধু রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমান প্রশাসনে বেশ প্রভাবশালী।" তিনি আরও বলেছেন, "৯/১১-এর প্রায় দুই দশক পরও এসব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যে মুসলিম জনগোষ্ঠী ও ইসলাম সম্পর্কে প্রচুর বিদ্বেষ দেখতে পাই।"
"আমি মনে করি না যে সব মুসলমান নিখুঁত। মুসলিম সমাজেও খারাপ মানুষ রয়েছে, যেমন সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সদস্যরা। তবে সারা বিশ্বের মুসলমানদের সম্পর্কে গৎবাঁধা ও প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা ন্যায্য নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক সিটি, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ওয়ালমার্ট (কারবনডেল), আলাবামা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক (বাসসের আন্তর্জাতিক ডেস্কের সাব-এডিটর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর (৯/১১-এর বার্ষিকী), ২০০১ (হামলার বছর), ২০০৮ (প্রশ্নের ঘটনা), ১১ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!