📌 পাকিস্তানের পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) ঘোষণা করেছে আফগান চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ। লাহোরের একটি শিক্ষার্থী বলেছেন, 'আমরা খেলনা নই, আমাদের জীবন এখানে'। এ পর্যন্ত ২০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী প্রভাবিত হচ্ছে
পাকিস্তানের লাহোরে চিকিৎসা শিক্ষা পড়ছিলেন আফগান শিক্ষার্থী আলিশ্বা। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মাতৃস্বাস্থ্য বিভাগে রাতের ডিউটি করছিলেন তিনি যখন মোবাইল ফোনে একে একে বার্তা আসতে শুরু করে। একজন বলেছিলেন, ‘আমরা পেয়েছি একটা নোটিফিকেশন, প্রায় ২০ শিক্ষার্থীকে বিতাড়িত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার’। আলিশ্বা আল জাজেরার সাথে কথা বলেন, তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মারার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, এটা বোকামি! কোনো কারণ ছাড়াই সরকার কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের বিতাড়িত করতে পারে?’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) ঘোষণা করেছে, আফগান শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ২০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীকে বিতাড়িত করার নির্দেশ দিয়েছে।
- 📌 শিক্ষার্থীদের মাত্র তিন দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে, অনেকের হোস্টেল থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বের হতে বলা হয়েছে।
- 📌 আলিশ্বা বলেন, ‘আমরা খেলনা নই, আমাদের জীবন এখানে। আমি প্রত্যেক মিনিটে রোদে ফেলতে চাই।’
- 📌 পাকিস্তান সরকারের দাবি, শুধুমাত্র ২২ শিক্ষার্থী পিএমডিসিতে নিবন্ধিত, বাকিরা ‘অ-নিবন্ধিত’। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থী পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (এইচইসি) ও কাবুলের পাকিস্তানি দূতাবাসের মাধ্যমে ‘আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ’ পেয়েছিলেন।
- 📌 পাকিস্তান-আফগান সম্পর্কের অবনতি ও সীমান্তে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) একটি নির্দেশনা জারি করে, যেখানে বলা হয়েছে, আফগান শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বর্তমান শিক্ষাবর্ষে আফগান শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি, স্থানান্তর বা পাঠদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পিএমডিসি বলেছে, শুধুমাত্র ২২ শিক্ষার্থী তাদের নিবন্ধিত রেকর্ডে রয়েছে, যার মধ্যে ১৪ জন স্নাতক হচ্ছে এবং ৮ জন স্নাতক হওয়ার পথে।
কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থী পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (এইচইসি) ও কাবুলের পাকিস্তানি দূতাবাসের মাধ্যমে ‘আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ’ পেয়েছিলেন। এই স্কলারশিপের অধীনে পাকিস্তান সরকার আফগান শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা শিক্ষা প্রদান করত। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের কোনো সরকারি সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ই জানিয়েছিল না যে, পিএমডিসিতে নিবন্ধিত হতে হবে।
আলিশ্বা বলেন, ‘আমি ২০২১ সালে পাকিস্তানে এসেছিলাম। তারা আমাদের স্কলারশিপ দিয়েছিল, যা সম্পূর্ণভাবে এইচইসি ও দূতাবাসের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছিল।’
পাকিস্তান-আফগান সম্পর্কের অবনতি ও সীমান্তে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের ‘অ-নিবাসী বিদেশীদের প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা’ (ইলিগাল ফরেনার্স রিপ্যাট্রিয়েশন প্লান) ২০২৩ সালের শেষে শুরু হয়েছিল। এই পরিকল্পনার অধীনে, পাকিস্তান সরকারের দাবি, ২০২৩ সালে দেশে সংঘটিত ২৪টি আত্মঘাতী হামলার মধ্যে ১৪টি আফগানদের দ্বারা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জুন মাসে বলেছিলেন, এই পরিকল্পনার অধীনে ২.৪ মিলিয়ন আফগান নাগরিক দেশে ফিরেছে। তিনি বলেছিলেন, এটি ‘ফেজড, অর্ডারলি অ্যান্ড ডাইগনিফাইড রিপ্যাট্রিয়েশন প্রসেস’।
"আমরা খেলনা নই, আমাদের জীবন এখানে। আমি প্রত্যেক মিনিটে রোদে ফেলতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লাহোর, পাকিস্তান
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আলিশ্বা (অনামিক), পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি), প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০+ আফগান চিকিৎসা শিক্ষার্থী প্রভাবিত, ২২ নিবন্ধিত শিক্ষার্থী, ১৪ স্নাতক, ৮ স্নাতক হওয়ার পথে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!