📌 নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের উত্তর মধ্যাঞ্চলে মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী গ্রামে সশস্ত্র হামলায় কয়েক ডজন মানুষ অপহৃত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে ডেকারা জেলার কেপেনিয়া মসজিদে হামলা চালানো হয়
নাইজেরিয়ার উত্তর মধ্যাঞ্চলের নাইজার রাজ্যের ডেকারা জেলায় অবস্থিত কেপেনিয়া মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে সশস্ত্র হামলায় কয়েক ডজন মানুষ অপহৃত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল ২টায় (১৩:০০ জিএমটি) এই হামলা চালানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের ডেকারা জেলায় কেপেনিয়া মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়
- 📌 হামলায় কয়েক ডজন মানুষ অপহৃত হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত নয়
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, লাকুরাওয়া সশস্ত্র দল এই হামলার জন্য দায়ী
- 📌 মহমুদা নামে আরেকটি দল হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে কয়েকজনকে উদ্ধার করে
- 📌 হামলার পর ডেকারা অঞ্চলে ভূমি মাইন পুঁতে দেওয়া হয়, যার ফলে পালিয়ে যাওয়া একজন ব্যক্তি ও তার পরিবার নিহত হন
📰 বিস্তারিত
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ডেকারা জেলার কেপেনিয়া মসজিদে হামলা চালানো হয়। এর আগে একই দিনে গিদান-জানা ও কেপেনিয়া গ্রামেও হামলা চালানো হয় বলে পুলিশ মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানিয়েছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, পুলিশ অপহরণের ঘটনা সম্পর্কে অবগত হলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, "যৌথ নিরাপত্তা দলকে ঘটনাস্থলে তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে।" তবে অপহৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মসজিদ থেকেই ৬০ জনের বেশি উপাসনাকারীকে অপহৃত করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, এএফপি-কে দেওয়া বিবৃতিতে স্থানীয়রা দাবি করেছেন যে, হামলায় কয়েকজন নিহতও হয়েছেন, যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও যাচাই করা যায়নি।
হামলার শিকার ডেকারা জেলার বাসিন্দা জিবরিল আহমাদ দাবি করেছেন, লাকুরাওয়া নামক সশস্ত্র দলের শত শত সদস্য গুলি, ছুরি ও দা নিয়ে হামলা চালায়। তিনি বলেন, "শুক্রবারের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই লাকুরাওয়া দলের শত শত সদস্য আমাদের উপর হামলা চালায়। তারা মানুষকে হত্যা করছে।" তিনি আরও জানান, মহমুদা নামে আরেকটি দল হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে কয়েকজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ফেডারেল আইনপ্রণেতা জাফরু মোহাম্মদ এএফপিকে জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামেও হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, "মহমুদা দলের কয়েকজন সদস্য লাকুরাওয়া দলের মতাদর্শের বিরোধিতা করতেন। যখন তারা লাকুরাওয়া দলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন তারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।"
এই হামলা ঘটে নাইজেরিয়ার পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে, যেখানে স্থানীয় সশস্ত্র দল ও প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা যোদ্ধাদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলে ১৭ বছর ধরে চলা সশস্ত্র বিদ্রোহের মধ্যেই এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবারও নাইজার রাজ্যে সহিংসতা অব্যাহত থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহি আহমাদ জানিয়েছেন, সেনা মোতায়েনের আগেই হামলাকারীরা আরও মানুষকে অপহরণের জন্য ফিরে আসে এবং ডেকারা থেকে বের হওয়া রাস্তায় ভূমি মাইন পুঁতে দেয়। তিনি বলেন, "গতকাল শহর থেকে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তি ও তার পরিবার ভূমি মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন। এখন সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছে।"
"যৌথ নিরাপত্তা দলকে ঘটনাস্থলে তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে।"
"শুক্রবারের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই লাকুরাওয়া দলের শত শত সদস্য গুলি, ছুরি ও দা নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। তারা মানুষকে হত্যা করছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাইজার রাজ্য, ডেকারা জেলা, কেপেনিয়া মসজিদ, গিদান-জানা ও কেপেনিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াসিউ আবিওদুন (পুলিশ মুখপাত্র), জিবরিল আহমাদ (হামলার শিকার), জাফরু মোহাম্মদ (ফেডারেল আইনপ্রণেতা), আবদুল্লাহি আহমাদ (স্থানীয় বাসিন্দা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০+ (অপহৃত ব্যক্তি), কয়েকজন (নিহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!