📌 নেপালের ভোটকোশি নদীতে বিধ্বংসী বন্যা ও ভূমিধসে ৪৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্প ও হিমবাহ গলনের কারণে সৃষ্ট এই বিপর্যয়ে নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক বিদেশি পর্যটক। বিজ্ঞানীরা হিমালয়ের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটকোশি নদী থেকে সৃষ্ট বিধ্বংসী পানির ঢলে তিব্বত ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এই বিপর্যয় ঘটে। ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত নেপাল ও তিব্বতে ৪৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভোটকোশি নদী থেকে সৃষ্ট পানির ঢলে তিব্বত ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বিধ্বংসী ক্ষয়ক্ষতি
- 📌 ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে ৪৭২ জনের মৃত্যু
- 📌 প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি
- 📌 ভূমিকম্প ও হিমবাহ গলনের কারণে সৃষ্ট এই বিপর্যয়ের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি
- 📌 গত ১৩ মাসের মধ্যে ভোটকোশি থেকে ত্রিশূলী পর্যন্ত নদী অববাহিকায় দ্বিতীয় বড় বিধ্বংসী বন্যা
📰 বিস্তারিত
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ভোটকোশি নদী থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ পানির ঢলে তিব্বত ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো তছনছ হয়ে যায়। এই ঢল ভাটির দিকে এগিয়ে গিয়ে ত্রিশূলী নদীতে মেশে। ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত নেপাল ও তিব্বতে ৪৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টে জানান, স্থানীয় সময় সকাল আটটা সাঁইত্রিশ মিনিটে একটি ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরনের ভূমিধস ঘটে। এই ভূমিধস নদীর গতিপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। পরে পানির চাপে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে নেমে আসে এই বিপর্যয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ওই সময় তিব্বতের গোসাইকুন্ডা থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করেছিল। পরে তারা জানায়, এটি প্রকৃত ভূকম্পন ছিল না, বিশাল আকৃতির ভূমিধসের কারণেই এই কম্পন তৈরি হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) বিজ্ঞানী শাশ্বত সান্যাল সিএনএনকে জানান, ভোটকোশির শাখা নদী লেন্দে খোলায় ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত ঘটে। হিমবাহ থেকে বিশাল বরফ ও পাথরের স্তূপ ধসে পড়ে নদীটির গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে দেয়। পরে পানির চাপে তা ভেঙে বিশাল স্রোত তৈরি করে, যা আকস্মিক বন্যায় রূপ নেয়। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও হিমবাহ বিশেষজ্ঞ রিজান ভক্ত কায়স্থও একই ধরনের ধারণা দিয়েছেন। তিনি জানান, গত বছরও ঠিক একইভাবে লেন্দে খোলা নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে বন্যা হয়েছিল।
"ভূমিকম্প ও ভূমিধসের কারণে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে বিপুল পরিমাণ পানি জমে বিপর্যয় ঘটে। এটি শুধু আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ নয়, ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলাফল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাসুয়া জেলা, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশির খানাল (পররাষ্ট্রমন্ত্রী), শাশ্বত সান্যাল (বিজ্ঞানী), রিজান ভক্ত কায়স্থ (হিমবাহ বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ৪৭২ জন, নিখোঁজ প্রায় ৫০০ জন, ভূমিকম্পের সময় ৮টা ৩৭ মিনিট, ভূমিধসের দূরত্ব ৪৭ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!