📌 নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় হিমবাহের পতন ও বন্যায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর উদ্ধার হন দু’জন নেপালি কর্মী। তাদের মধ্যে একজন কবির মহরজন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে যান, কিন্তু স্ত্রীকে চিনতে পারছিলেন না। এ ঘটনায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় হিমবাহের পতন ও বন্যায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর উদ্ধার হন দু’জন নেপালি কর্মী। তাদের মধ্যে একজন কবির মহরজন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে যান, কিন্তু উদ্ধার হওয়ার পর স্ত্রীকে চিনতে পারছিলেন না। উদ্ধারকারীদের মতে, কবির মহরজন ও তার সহকর্মী সঞ্জয় শাহের জীবন বাঁচানোর পেছনে ছিল সুড়ঙ্গে বাতাসের উপস্থিতি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯ দিন অন্ধকার সুড়ঙ্গে আটকে পড়া দু’জন নেপালি কর্মীকে উদ্ধার করা হয়, তাদের মধ্যে একজন কবির মহরজন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে যান।
- 📌 ২৬ আগস্ট নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় হিমবাহের পতন ও বন্যায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, এখনো ১২১ জন জলবিদ্যুৎকর্মী নিখোঁজ।
- 📌 কবির মহরজন উদ্ধার হওয়ার পর স্ত্রীকে চিনতে পারছিলেন না এবং জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘এতক্ষণ কেন আমাকে বিছানা দেওয়া হয়নি?’
- 📌 সঞ্জয় শাহ ও কবির মহরজনকে উদ্ধার করা হয় একটি কক্ষ থেকে, যেখানে বাতাস থাকায় তারা বেঁচে যান।
- 📌 সকাল সাড়ে ৭টায় (জিএমটি ০১:৪৫) কবির মহরজন স্ত্রীকে ফোন করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘আমাকে সুড়ঙ্গের ভেতরে যেতে হবে, ভেতরে কোনো নেটওয়ার্ক থাকবে না।’
📰 বিস্তারিত
নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় ২৬ আগস্ট একটি হিমবাহের অংশবিশেষ ধসে পড়লে কাদা ও পানির বিশাল ঢল নামে। এই ঢলে চাপা পড়া সুড়ঙ্গে আটকে পড়েন কবির মহরজন ও তার সহকর্মী সঞ্জয় শাহ। উদ্ধারকারীদের মতে, এই দু’জনকে উদ্ধার করা হয় একটি কক্ষ থেকে, যেখানে বাতাসের উপস্থিতি তাদের জীবন বাঁচিয়ে দেয়। উদ্ধার তৎপরতায় নেতৃত্ব দেওয়া অভিজ্ঞ টানেল প্রকৌশলী ও আইনপ্রণেতা শ্রী রাম নেউপানে বলেছেন, এই দু’জনকে উদ্ধার করা একটি অলৌকিক ঘটনা।
কবির মহরজনের স্ত্রী হীরা শোভা জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৭টায় (জিএমটি ০১:৪৫) স্বামীকে ফোন করেছিলেন। স্বামী বলেছিলেন, ‘আমাকে সুড়ঙ্গের ভেতরে যেতে হবে, ভেতরে কোনো নেটওয়ার্ক থাকবে না।’ তার মাত্র ঘণ্টাখানেক পর, প্রায় ২৫ মাইল উজানে লাংটাং লিরুং পর্বতে হিমবাহ ধসে পড়ে। এর ফলে একটি শক্তিশালী ভূমিধস সৃষ্টি হয়, যা পানির বিশাল দেয়াল তৈরি করে এবং গ্রামগুলো ধ্বংস করে দেয়। এই ঢলে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক কাদাপানিতে তলিয়ে যায়, প্রায় ৯০০ কর্মী-শ্রমিক আটকা পড়ে।
উদ্ধারকারীদের মতে, সঞ্জয় শাহ সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকাকালীন এক তলা থেকে আরেক তলায় ছুটে গিয়ে সহকর্মীদের সতর্ক করতে থাকেন। কিন্তু পানির গতির সঙ্গে পেরে ওঠেননি অনেক শ্রমিক। কর্মকর্তারা এমন একটি ভিডিও ফুটেজের কথা জানিয়েছেন, যেখানে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন শ্রমিককে পানির ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটি মইয়ের সন্ধান পেয়েছিলেন।
"আমাকে সুড়ঙ্গের ভেতরে যেতে হবে। ভেতরে কোনো নেটওয়ার্ক থাকবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকা, লাংটাং লিরুং পর্বত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কবির মহরজন, সঞ্জয় শাহ, হীরা শোভা, শ্রী রাম নেউপানে, সুরজ দহল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ দিন, ১ হাজার ৩০০ নিহত, ১২১ জন নিখোঁজ, ২৬ আগস্ট, ২৫ মাইল, ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!