📌 পাহাড়ি ঢলের কারণে নেপাল থেকে আসা ৩৮ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুতের ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠেছে। গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিনে দুই থেকে চারবার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিড হয়ে বাংলাদেশে আসা ৩৮ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সরবরাহ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মাত্র ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও ঘণ্টায় আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাহাড়ি ঢলের কারণে নেপাল থেকে আসা ৩৮ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সরবরাহ স্থায়ীভাবে বন্ধ
- 📌 গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, লোডশেডিং দিনে দুই থেকে চারবার পর্যন্ত বিস্তৃত
- 📌 গ্রাম ও শহরে বিদ্যুতের সমবণ্টন শুরু হলেও শহরাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের স্থায়ী প্রভাব
- 📌 এলএনজি টার্মিনাল সচল থাকলেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না
📰 বিস্তারিত
গত বুধবার চীন-নেপাল সীমান্তে ভোতিকোশি নদীর উৎসমুখে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক ঢলে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এ ঘটনার পর পরদিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় নেপাল থেকে আসা ৩৮ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সরবরাহ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় মারাত্মক সংকট দেখা দেয়।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, দুটি এলএনজি টার্মিনাল সচল থাকলেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে কিছুটা মধ্যম সক্ষমতায় টার্মিনালগুলো চালু রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল ১০টায় দুটি এফএসআরইউ থেকে মোট ৭২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ ছিল মাত্র ২৩৪০ মিলিয়ন ঘনফুট।
পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নেপালের কিছু অংশে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। নেপালের বিদ্যুৎ ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসছিল। এখন নেপাল অন্য একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ভারতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে চাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া গেলেই সরবরাহ শুরু হবে।
আজ শনিবার বেলা ২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ ছিল মাত্র ১৩ হাজার ৬১০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ২৪৭ মেগাওয়াট। ওই সময় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৮৬০ মেগাওয়াট, তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার ৫৫ মেগাওয়াট, কয়লাকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫৭৭ মেগাওয়াট এবং আদানির কেন্দ্র থেকে ৯২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এ ছাড়া সৌরভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৬০০ মেগাওয়াট এবং বায়ুভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসছিল ১৭ মেগাওয়াট।
"সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটার আগেই সে সম্পর্কে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সক্রিয় হতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জহুরুল ইসলাম (পিডিবি সদস্য), পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ (মেগাওয়াট), ১৫ (হাজার মেগাওয়াট), ৭২০ (মিলিয়ন ঘনফুট), ২২৪৭ (মেগাওয়াট ঘাটতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!