📌 নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হিমবাহ ধসজনিত বন্যায় নিহত ৫৭৯ ও নিখোঁজ প্রায় দুই হাজার। বিপুল পানি গঙ্গা অববাহিকায় প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসায় তাৎক্ষণিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম হলেও পর্যবেক্ষণ জরুরি
নেপালের রাসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসজনিত ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৫৭৯ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় দুই হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের রাসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসজনিত বন্যায় নিহত ৫৭৯ ও নিখোঁজ প্রায় দুই হাজার
- 📌 ভোতেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী হয়ে বিপুল পানি ভারতের গঙ্গা অববাহিকায় প্রবাহিত
- 📌 বাংলাদেশের ভূ-তত্ত্ববিদরা বলছেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসায় তাৎক্ষণিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম
- 📌 বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানের বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি
📰 বিস্তারিত
গত ২৬ আগস্ট নেপালের রাসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসজনিত কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুসারে, হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যায়। পরবর্তীতে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে নেমে আসে। ত্রিশূলী নদীর পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে মাত্র ৩০ মিনিটে পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বৃদ্ধি পায়।
এই ঢল ভোতেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী হয়ে ভারতের গঙ্গা অববাহিকায় প্রবাহিত হচ্ছে। ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে, এটি গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা গ্লফ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের ভূ-তত্ত্ববিদ ও পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসায় বাংলাদেশে পৌঁছানোর সময় পানির তীব্রতা অনেকটা কমে যাবে। ফলে তাৎক্ষণিক বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুশফিকুস সালেহীন বলেন, "নেপাল থেকে নেমে আসা পানি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সমতলে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে বাংলাদেশে পৌঁছানোর সময় এর তীব্রতা অনেকটা কমে যাওয়ার কথা।" তিনি আরও বলেন, নেপালের সংশ্লিষ্ট এলাকায় একাধিক হিমবাহ হ্রদ রয়েছে, যেগুলোর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের গবেষক মো. আজাহার হোসেন জানান, উৎপত্তিস্থল থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময় পানির গতি অনেক কমে যাবে। তবে আগামী কয়েক দিনে উজানে ভারি বৃষ্টিপাত হলে দ্বিতীয় দফার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
"জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদের ঝুঁকি বাড়ায় আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ মোকাবেলায় নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাসুয়া জেলা, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মুশফিকুস সালেহীন (বুয়েট), মো. আজাহার হোসেন (ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: নিহত ৫৭৯, নিখোঁজ প্রায় ২০০০, পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ৯ মিটার, দূরত্ব ৪৫০-৫০০ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!