📌 নেপালের হিমবাহধসে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যায় ৬২৩ জনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজের মধ্যে তিন দিন পর হারানো ৮ বছরের শিশু জোয়ালকে উদ্ধার করেছেন মা। স্কুলে থাকা অবস্থায় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জঙ্গলের গাছে আশ্রয় নেয় সে
নেপালের উত্তরাঞ্চলে হিমবাহধসের পর সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যায় তিন দিন পর হারানো নিজের ৮ বছরের ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন মাট্টি মায়া তামাং। স্কুলে থাকা অবস্থায় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জঙ্গলের গাছে আশ্রয় নেওয়া শিশুটির নাম জোয়াল ঘাল। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ জনে, আর নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের রাসুয়া জেলায় হিমবাহধসের পর ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে প্রবল বেগে কাদাপানি ও পাথরের ঢল নামে
- 📌 মৃত্যু হয়েছে ৬২৩ জনের, নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন, যার মধ্যে ৫৪০ জন বিদেশি
- 📌 স্কুলে থাকা অবস্থায় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জঙ্গলের গাছে আশ্রয় নেয় ৮ বছরের জোয়াল ঘাল
- 📌 তিন দিন পর মায়ের কোলে ফিরে আসে জোয়াল; তার ডান পা ভেঙে গেছে ও মুখে আঘাতের দাগ রয়েছে
- 📌 ইউনিসেফ জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢলে অন্তত ১৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলে হিমবাহধসের পর ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে প্রবল বেগে কাদাপানি ও পাথরের ঢল নামে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৪ জনে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হিমবাহধসের সময় স্কুলে থাকা অবস্থায় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ৮ বছরের জোয়াল ঘাল। দুর্যোগের মুহূর্তে বুদ্ধি করে পাহাড়ি জঙ্গলে ছুটে গিয়ে গাছের ওপর উঠে বসে সে। এরপরই প্রাণে বেঁচে যায় জোয়াল। বৃহস্পতিবার তাকে উদ্ধার করা হয় রাসুয়া জেলার একটি হাসপাতাল থেকে। এক পা ভাঙা ও মুখে কাটা দাগ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল সে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় জোয়ালকে।
জোয়ালের মা মাট্টি মায়া তামাং (২৮) তিন দিন ধরে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন তাঁর দুই ছেলেকে। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘একে একে চার জায়গায় গিয়েছি। কোথাও তালিকায় আমার সন্তানদের নাম ছিল না। আমি ধরে নিয়েছিলাম, দুই সন্তানের কেউই আর বেঁচে নেই। কান্না ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না।’
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের শনাক্ত ও নিবন্ধনের কাজ করছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢলে অন্তত ১৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘উনি যখন বললেন, জোয়াল কোথায় আছে, সেটা জানেন; তখন কথাটা সত্যি বলে মনে হচ্ছিল না। আমি ধরে নিয়েছিলাম, আর কখনোই ছেলেকে খুঁজে পাব না।’ — মাট্টি মায়া তামাং
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের রাসুয়া জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাট্টি মায়া তামাং (২৮), জোয়াল ঘাল (৮)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ৬২৩, নিখোঁজ ১ হাজার ৯২৪, বিদেশি নিখোঁজ ৫৪০, ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ১৭ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!