📌 নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার মানুষ। মর্গে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মৃতদের দাফন শুরু হলেও স্বজনদের কাছে রয়ে গেছে অপূর্ণতা। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ চলছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে হাহাকার চলছে। মর্গগুলোতে মৃতদেহ রাখার জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে
- 📌 প্রায় চার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন
- 📌 প্রকৃত নামের ১৯ বছর বয়সী কিশোরী তাঁর মায়ের মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দিয়েছেন
- 📌 অস্ট্রেলিয়ার অন্তত ৩৮ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন
- 📌 ত্রাণকর্মীরা শিশু পাচারসহ বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন
📰 বিস্তারিত
বন্যায় বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পরও নেপালে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে হাহাকার চলছে। মর্গগুলোতে মৃতদেহ রাখার জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেককে দ্রুত দাফন করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, প্রকৃত নামের ১৯ বছর বয়সী কিশোরী মঙ্গলবার তাঁর মায়ের মরদেহ শনাক্ত করতে রক্তের নমুনা দিয়েছেন। তাঁর আশা, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর মায়ের পরিচয় মিলবে। প্রকৃতের বাবার মরদেহ ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সরকারি আহ্বানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিখোঁজদের স্বজনেরা রক্তের নমুনা দিতে আসছেন। বিদেশে থাকা স্বজনদেরও ডিএনএ নমুনা পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা কয়েকটি নেপালি পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা রমেশ্বর অধিকারী বলেন, ‘আমরা ভাইবোন বা সরাসরি আত্মীয়দের কাছ থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করছি। মানুষ উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে নমুনা দিতে আসছেন।’
বন্যায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় চার হাজার মানুষ। নিখোঁজ ও নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৮ জন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে জানা গেছে। নিখোঁজ ২৫ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের আরও সহায়তা চেয়েছেন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি চীনা সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলা। সেখানে বহু এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। তিমুরে গ্রামের বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সী লাখপা ঘা বলেন, বন্যায় তাঁর পরিবারের সাতজন সদস্য ভেসে গেছে। তিনি জানান, সেনাবাহিনী এখনো তাঁদের গ্রামে পৌঁছাতে পারেনি। রাস্তা ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, উঁচু এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা অ্যামি স্যাগিটা লেফেভর বলেন, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে, তবে সীমিত পরিসরে। সংস্থাটি তাঁবু, কম্বল, দড়ি, ত্রিপল, বালতি ও নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক পরিবারকে অপেক্ষাকৃত দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।
বন্যার পর প্রায় দুই হাজার ছয়শো শিশুর গুরুতর অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শতাধিক শিশু বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও জানিয়েছেন ত্রাণকর্মীরা। তাঁরা পানিদূষণ, রোগের বিস্তার ও শিশু পাচারের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে মেয়েশিশু পাচারের ইতিহাস থাকা অঞ্চলে দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা সক্রিয় হতে পারে বলে জানান সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা।
‘আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। আমরা সবাইকে হারিয়েছি।’ — লাখপা ঘা, তিমুরে গ্রামের বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল, চীনা সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলা, তিমুরে গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রকৃত গুরুঙ, লাখপা ঘা, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা রমেশ্বর অধিকারী, অ্যামি স্যাগিটা লেফেভর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ১ হাজার+, নিখোঁজ ৪ হাজার+, অস্ট্রেলীয় নাগরিক মৃত্যু ৩৮ জন, অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ ২৫ জন, শিশু অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন ২ হাজার ৬০০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!