📌 সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ দুর্নীতি দমন কমিশনের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগগুলিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগগুলিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে রাজধানীর বাংলামোটরে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুদকের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানান
- 📌 অভিযোগে বলা হয়েছে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে ৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতি এবং ১৫০ জনকে পদোন্নতি দিয়ে ২ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে
- 📌 আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, দুদকের অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য নেই
- 📌 তিনি বলেন, পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে পিএসসির সুপারিশ অনুযায়ী করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম–দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তোলা অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি দাবি করেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করার কথা বলার সময় দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বললেও পরে ওই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। এ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘আমি দুদকের প্রতি আহ্বান জানাব, আমার যে মানহানি করা হয়েছে, সেটার জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাপোলজি (ক্ষমা প্রার্থনা) করবেন এবং আপনাদের বরাত দিয়ে যে খবরগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব, মানহানির মামলা করতে বাধ্য হব।’
রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এ কথা বলেন। দুদকের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়ার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা আসিফ মাহমুদ।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘অভিযোগে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে পদায়নের আদেশ করিয়ে ৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতি এবং ১৫০ জনকে পদোন্নতি দিয়ে ২ কোটি টাকার দুর্নীতি—মোট ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে। এই দুটি অভিযোগে দায়ী করা হয়েছে আমাকে এবং তৎকালীন (ও বর্তমান) যুব ও ক্রীড়া সচিব, একজন যুগ্ম সচিব ও একজন উপসচিবকে।’
৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য নেই দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘২০২১ সালে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১১২ জন দশম গ্রেডের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি না দিয়ে নবম গ্রেডের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁরা ওই পদে বহাল ছিলেন। অথচ প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে চলতি দায়িত্বে ছয় মাসের বেশি রাখা যায় না। ২০২১ সালের ওই আদেশ নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় পরে তা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে আদালত ওই আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। তবে আদালতের রায়ের সময় ১১২ জনের মধ্যে ৩৮ জন দায়িত্বে বহাল ছিলেন, অন্যরা এরই মধ্যে অবসরে চলে গিয়েছিলেন অথবা নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছিলেন।’
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মূলত ওই ৩৮ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নবম গ্রেড থেকে নামিয়ে তাঁদের মূল পদে (দশম গ্রেড) আবার প্রত্যাবর্তন করানো হয়। কিন্তু দুদকের অভিযোগে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু ৩৮ জনকে অপসারণ করা হয়েছিল, সেখানে একটা শূন্য পদ তৈরি হয়েছিল। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে শূন্য হওয়া সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার মোট ১৮২টি শূন্য পদে পদোন্নতির জন্য পিএসসির মতামত চাওয়া হয়। অভিযোগে ১৫০টি পদের কথা উল্লেখ করা হলেও আসলে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল ১৮২ পদে।’p>
পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পদোন্নতির জন্য জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুত করে পিএসসিতে পাঠানো হয়। নিয়ম মেনে পদোন্নতির জন্য জ্যেষ্ঠতার তালিকা পাঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরির রেকর্ড, এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন), বিভাগীয় মামলা বা শাস্তিমূলক কোনো বিষয় বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পিএসসির কাছে পাঠানো হয়েছিল। পিএসসি এসব তথ্য যাচাই–বাছাই ও পর্যালোচনা করে পদোন্নতি দেয়।’
‘পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় ২ কোটি টাকা দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। এই পদোন্নতিটা সম্পূর্ণরূপে পিএসসির সুপারিশ অনুযায়ী করা হয়েছে। পিএসসির সুপারিশে প্রথম যে ১৮২ জন এসেছে, ওই ১৮২ জনকেই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সুপারিশ লঙ্ঘন করে যদি আমরা ৬০০ বা ৭০০ নম্বর থেকে কাউকে এনে পদোন্নতি দিতাম, তাহলে দুর্নীতির কথা অভিযোগ করা যেত।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর বাংলামোটর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা, ৩৮ জন, ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন, ২ কোটি টাকা, ১১২ জন, ১৮২টি পদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!