📌 নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হ্রদের পানি উপচে পড়ায় বিপর্যয়ের ঝুঁকি বেড়েছে। উদ্ধারকাজ সাময়িক স্থগিত রাখতে হয়েছে। মৃত্যু ছাড়িয়েছে পাঁচ শতাধিক, নিখোঁজ এক হাজারের বেশি। বিদেশি উদ্ধার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে নেপাল
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হ্রদের বিপজ্জনক পানি উপচে পড়ায় বিপর্যয়ের ঝুঁকি বেড়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধারকাজ সাময়িক স্থগিত রাখতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেপালের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা। এছাড়া বুধবারের প্রলয়ংকরী বন্যায় মৃত্যু ছাড়িয়েছে পাঁচ শতাধিক, নিখোঁজ রয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হ্রদের পানি উপচে পড়ায় বিপর্যয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি
- 📌 হ্রদের পানির পরিমাণ ২৫ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছায়, যা আগের দিন ছিল ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার
- 📌 নেপালের সেনাবাহিনী ৯০ মিনিটের জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখে
- 📌 বুধবারের বন্যায় মৃত্যু ৪৮৯ জন (নেপাল) ও ৫ জন (চীন), নিখোঁজ এক হাজারের বেশি
- 📌 নেপাল বিদেশি উদ্ধার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে
📰 বিস্তারিত
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হ্রদের বিপজ্জনক পানি উপচে পড়ায় বিপর্যয়ের ঝুঁকি বেড়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধারকাজ সাময়িক স্থগিত রাখতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেপালের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি নোটিশ পেয়েছি যে হ্রদের তীর ভেঙে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এটি ঠিক কত বড় এবং পানির স্তর কতটা উঁচু, তা আমাদের জানা নেই।’
বুধবারের প্রলয়ংকরী বন্যায় মৃত্যু ছাড়িয়েছে পাঁচ শতাধিক। নেপালে মৃত্যু হয়েছে ৪৮৯ জনের, চীনের তিব্বতে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এছাড়া দুই দেশ মিলিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। হিমবাহ ভেঙে যাওয়ার পর বিশাল শিলাখণ্ড, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের তীব্র স্রোত হিমালয়ের পার্বত্য নদীব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নিচে নেমে আসে। এ সময় একটি হ্রদেরও সৃষ্টি হয়। সেখানে ক্রমাগত পানি জমতে থাকে এবং পানির স্তর বাড়তে থাকে।
নেপালের বন্যাদুর্গত রসুয়া জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা নরেন্দ্র পরিয়ার মতে, হ্রদের পানি ভোটেকোশি নদীতে পড়ার আগে এর জলাধারে পানির পরিমাণ ২৫ লাখ ঘনমিটার অতিক্রম করেছিল, যা আগের দিন ছিল ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, নদীতে পানির স্তর বাড়ছে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মাইকে সবাইকে নদী থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজন নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু স্থানের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪০ বছর বয়সী শান্তি তামাং বলেন, ‘সবাইকে “পালাও” বলে সতর্ক করা শুরু হলে আমিও দৌড় দিলাম। বিদুর শহরের সাইরেনও বেজে উঠেছিল। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’
উদ্ধারকর্মীদেরও সরঞ্জামসহ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিলে চীনের উদ্ধারকারী কর্মী ও যানবাহনকে পিছু হটে নিরাপদ এলাকায় অবস্থান নিতে বলা হয়। পরে উজানের নদীর মাধ্যমে হ্রদের ঝুঁকিটি সামলানো সম্ভব বলে মনে হওয়ায় উদ্ধারকাজ আবার শুরু করা হয়।
নেপালের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জানান, নেপাল কর্তৃপক্ষ ৯০ মিনিটের জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখে। পরে তা আবার শুরু করা হয়। বুধবারের বন্যা গ্রাম ও উপত্যকাগুলোকে ধূলিসাৎ করে দেয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বংস হয়ে যায়। কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্ত সড়কটি ধ্বংস হয়ে যায়।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের অনেকেই ভারতের হিন্দু তীর্থযাত্রী। তাঁরা তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
"কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং চীন ও বিদেশের নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমবাহ অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নেপালের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, চীনের প্রেসিডেন্ট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ লাখ ঘনমিটার, ৯০ মিনিট, ৪৮৯ জন, ৫ জন, ১ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!