📌 মুম্বাইতে লক্ষাধিক মানুষের বিশাল মিছিলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, কেরল সরকার তার বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের পুরোনো দুর্নীতির মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু করেছে
মুম্বাইতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিশাল জনমিছিলে দেশের রাজনৈতিক সংকট আরো গভীর হয়ে পড়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায় লক্ষাধিক মানুষের এই মিছিলে। ‘বিরাট গর্জনা মোর্চা’ নামে পরিচিত এই মিছিলে রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়া সরকার ও জ্ঞানেশবিরোধী পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলের শুরু হয়েছিল দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মেট্রো সিনেমা জংশন থেকে এবং শেষ হয়েছিল বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সামনে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুম্বাইতে ‘ঠাকরে ভাইয়েরা’ নেতৃত্বে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে লক্ষাধিক মানুষের বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে
- 📌 মিছিলে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেসের বালাসাহেব থোরাট, বিজয় ওয়ারেত্তিওয়ার ও এনসিপি (শরদ) নেতা জয়ন্ত পাটিল
- 📌 কেরল সরকার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের পুরোনো দুর্নীতির মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু করেছে
- 📌 মামলায় অভিযোগ, তৎকালীন পূর্তসচিব জ্ঞানেশ কুমার নির্মাণ সংস্থা ‘পাতি–বেল’-এর প্রকল্পে দুর্নীতির সন্দেহে জড়িত ছিলেন
- 📌 ২০০৬ সালে মালয়েশিয়ার ইঞ্জিনিয়ার লি সি বিন আত্মহত্যা করার আগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন
- 📌 কেরল সরকারের দাবি, বাম আমলে তদন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করা হয়েছিল
- 📌 জ্ঞানেশ কুমার ও অন্যান্য সিইসি কমিশনারদের নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে রক্ষাকবচ রয়েছে, তবে পুরোনো মামলায় এই আইন প্রযোজ্য নয়
📰 বিস্তারিত
মুম্বাইতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দাবি জানানোর জন্য ‘ঠাকরে ভাইয়েরা’ নেতৃত্বে বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলে শিবসেনার উদ্ধব ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) নেতা রাজ ঠাকরে অন্যতম প্রধান বক্তা ছিলেন। তারা দাবি জানান, জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের সকল সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। তারা উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপর্যয়ের মাত্র পাঁচ মাস পর, জ্ঞানেশের নেতৃত্বে কমিশন মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৬০ লাখ ভোটারের নাম পরিবর্তন করে বিজেপিকে ক্ষমতায় সাহায্য করেছিল। এছাড়াও, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে দুই কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে, কেরল সরকার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের পুরোনো দুর্নীতির মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু করেছে। সেই বছর কেরল সরকারের একটি দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ‘পাতি–বেল’ নামের নির্মাণ সংস্থা জড়িত ছিল। প্রকল্পটি ছিল ভারত ও মালয়েশিয়ার যৌথ উদ্যোগ। মালয়েশিয়ার ইঞ্জিনিয়ার লি সি বিন আত্মহত্যা করার আগে তিনি সুইসাইড নোটে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। সেই সময়ের ঘটনাটি তদন্তের জন্য ভিজিল্যান্স বিভাগের হাতে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মাঝপথেই তা বন্ধ হয়ে যায়। বামপন্থী সরকারের আমলে এই তদন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল পথে চালিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
কেরল সরকারের পূর্তমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তে কোনো প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জ্ঞানেশ কুমার ও অন্যান্য সিইসি কমিশনারদের নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে রক্ষাকবচ রয়েছে, তবে পুরোনো মামলায় এই আইন প্রযোজ্য নয় বলে জানানো হয়েছে।
"এই মুহূর্তে দেশের মানুষের দাবি একটাই, জ্ঞানেশকে হটিয়ে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করা হোক। ভবিষ্যতের সব ভোট হোক ব্যালট মারফত। কারণ, জ্ঞানেশের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন হয়ে উঠেছে বিজেপির হাতিয়ার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই (মেট্রো সিনেমা জংশন থেকে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন পর্যন্ত), কেরল (ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিইসি জ্ঞানেশ কুমার, রাজ ঠাকরে, বালাসাহেব থোরাট, লি সি বিন, রমেশ চেন্নিথালা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ লাখ ভোটার, ২৪৫ কিলোমিটার রাস্তা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!