📌 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ট্রাম্পের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করছে। 'আব কি বার, ট্রাম্প সরকার!' স্লোগানের পেছনে থাকা ঐতিহাসিক সমর্থন এখন বদলে গেছে। ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি ও রাশিয়া-সম্পর্কিত শুল্কের কারণে সম্পর্কে গভীর বিভেদ দেখা দিচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ করছে। একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দুই দেশের সম্পর্ক এখন গভীর বিভেদের মুখে। ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে শুল্কের চাপ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা এই সম্পর্কের সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৯ সালে হিউস্টনে ৫০ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও মোদি ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন বজায় রাখেননি — বরং এবার নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের আসন হ্রাসের পর ভারত সরকার 'স্বস্তি' পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
- 📌 ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি ও রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের চাপের কারণে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
- 📌 ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ে মোদি 'আব কি বার, ট্রাম্প সরকার!' স্লোগান ব্যবহার করেছিলেন, কিন্তু নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে যান।
- 📌 ভারতের দৃষ্টিতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসন আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা — বিশেষত রাশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে।
- 📌 ভারত ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের (যেমন রিগ্যান, বুশ) সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখে, কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের প্রশাসনকে প্রায়ই মানবাধিকার বিষয়ে সমালোচনামুখর বলে মনে করে।
📰 বিস্তারিত
২০১৯ সালে টেক্সাসের হিউস্টনে একটি যৌথ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসায় মেতে উঠেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সমাবেশে ৫০ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। তখন মোদি ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে বলেছিলেন, 'যখনই আমাদের দেখা হয়েছে, তাঁকে একই রকম মনে হয়েছে—উষ্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ, সহজে কাছে টানা যায়, প্রাণবন্ত এবং রসবোধে ভরপুর।' সেই সময় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রচারণা চলছিল। মোদি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয়দের মধ্যে ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন জোগাড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
মোদি নিজের নির্বাচনী প্রচারের জনপ্রিয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন 'আব কি বার, ট্রাম্প সরকার!' (হিন্দিতে 'এবার ট্রাম্প সরকার!')। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে যান। সাত বছর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে, ভারত সরকার বরং স্বস্তি পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্নায়ুযুদ্ধের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন করে গতি আসে। মস্কোর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে দীর্ঘদিন অবিশ্বাসের শিকার ছিল এই সম্পর্ক। কিন্তু বুশের আমলে (২০০৬-২০০৮) ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পরমাণু চুক্তি হয়। এছাড়াও, মার্কিন জাহাজ ও উড়োজাহাজকে ভারতের সামরিক ঘাঁটিতে জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের প্রশাসনকে ভারত প্রায়ই মানবাধিকার বিষয়ে বেশি সমালোচনামুখর বলে মনে করেছে।
বর্তমানে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসন আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বিশেষত রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের চাপ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতার কারণে সম্পর্কে গভীর বিভেদ দেখা দিয়েছে। ভারত ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের (যেমন রিগ্যান, বুশ) সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখে, কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের প্রশাসনকে প্রায়ই মানবাধিকার বিষয়ে সমালোচনামুখর বলে মনে করে।
"আপনার জীবন কঠিন করে তোলা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (হিউস্টন, ওয়াশিংটন), ভারত (নয়াদিল্লি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার (ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!