📌 যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে বিয়ে করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অভিযোগে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ২০০৯ সালের বিয়ের পেছনে ভাই-বোনের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, কিন্তু আইনি সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় মামলা এগোয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন তার নাগরিকত্বের নথি ও জন্মতারিখের অসঙ্গতি নিয়ে তদন্ত করছে
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে বিয়ে করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অভিযোগে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের নাগরিক আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করার পেছনে ভাই-বোনের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা ২০১৬ সালে এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তে উঠে এসেছিল। তবে পাঁচ বছরের আইনি সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় মামলা এগোয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০৯ সালে ইলহান ওমর তার ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগে নতুন তদন্ত শুরু হয়েছে, যা ২০১৬ সালে এফবিআই তদন্তের বিষয় ছিল।
- 📌 তদন্তকারীরা ওমর ও এলমির মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্কের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন, কিন্তু প্রমাণের অভাবে মামলা এগোয়নি।
- 📌 ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন আবারও তার অভিবাসন নথি ও নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
- 📌 ১২ অক্টোবর ওমরের বাসায় তল্লাশি করে তার ব্যক্তিগত ডিভাইস ও নথি জব্দ করা হয়।
- 📌 ইলহান ওমর নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব।
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইলহান ওমর তার ভাই আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, এলমি তার ভাই এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় এলমি যুক্তরাজ্যের নাগরিক ছিলেন। ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমর ও এলমির মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে তাদের হাতে ঠিক কী ধরনের প্রমাণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, বিয়ের মাধ্যমে এলমি শর্তসাপেক্ষে দুই বছরের গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পেতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নথি চাইলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যান এবং আবেদন প্রত্যাহার করেন। তবে ২০০৯ সালে বিয়ের পর ২০১৪ সালের মধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন প্রসিকিউটররা। পাঁচ বছরের আইনি সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় তদন্তটি আর এগোয়নি। ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় মিনেসোটার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত বন্ধ করে দেয়।
ইলহান ওমর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, ভাইকে বিয়ে করে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। গত সপ্তাহে এমএস নাউয়ের উপস্থাপক ক্রিস হেইস তাকে সরাসরি এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওমর বলেন, ‘আমার জানা মতে, এমনটা নয়।’
ইলহান ওমরের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০০২ সালে আহমেদ হিরসির সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ে হয় তার। ২০০৯ সালে এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন তিনি। ২০১৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। এর এক বছর পর হিরসিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন ওমর। পরে ২০১৯ সালে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। ২০২০ সালে রাজনৈতিক পরামর্শক টিম মাইনেটকে বিয়ে করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইলহান ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে মুঠোফোন, নোটবুক, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও পাসপোর্ট জব্দ করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ওমর ভুল নাম বা জন্মতারিখ ব্যবহার করেছিলেন কি না। তার বাবার আইনগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু নথিতে ওমরের জন্মতারিখ ১৯৮১ সালের ৪ অক্টোবর, আবার অন্য নথিতে ১৯৮২ সালের একই তারিখ উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
"আমার জানা মতে, এমনটা নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, মিনেসোটা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইলহান ওমর, আহমেদ নুর সাঈদ এলমি, ক্রিস হেইস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০৯, ২০১৬, ২০২১, ২০০০, ১২ অক্টোবর, ২৯ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!