📌 হরর সিনেমা শুটিংয়ে তারকাদের অভিজ্ঞতা ভয়ংকর। কানাডার পুরোনো বাড়িতে অচেনা ব্যক্তির দেখা, অভিনেত্রীর শরীরে রহস্যময় দাগ, সেটে আগুন লাগা — এমন নানা ঘটনা ঘটেছে পর্দার পিছনে
হরর সিনেমার পর্দায় ভূত, ভ্যাম্পায়ার ও অশরীরী আত্মার লড়াই দেখে দর্শক ভয় পায়। কিন্তু পর্দার পিছনে তারকাদের অভিজ্ঞতা আরো ভয়ংকর। শুটিংয়ে অচেনা মানুষের দেখা, রহস্যময় দাগ, সেটে আগুন লাগা — এমন নানা ঘটনা ঘটেছে পর্দার পিছনে। হ্যালোইন উপলক্ষে জানুন তারকাদের এমন অভিজ্ঞতার গল্প।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কানাডার পুরোনো বাড়িতে অচেনা ব্যক্তির দেখা: ‘ইট’ সিনেমায় অভিনয়কারী ফিন উলফহার্ড শুটিংয়ে অচেনা কালো পোশাক পরা ব্যক্তিকে দেখেন, কিন্তু কেউই তাকে চেনেন না
- 📌 অভিনেত্রীর শরীরে রহস্যময় দাগ: ‘দ্য কনজ্যুরিং’ সিনেমায় অভিনয়কারী প্যাট্রিক উইলসন শিশু অভিনেত্রী জোয়ি কিংয়ের শরীরে অদ্ভুত কালশিটে দাগ দেখেন, যা কোনো আঘাতের কারণ ছাড়াই ঘটে
- 📌 শুটিং সেটে আগুন লাগে: ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ সিনেমার শুটিংয়ে তিনতলা বাড়ির আদলে তৈরি বিশাল সেট পুড়ে যায়, শুটিং তিন মাস বন্ধ থাকে
- 📌 রাতের শুটিংয়ে অদ্ভুত শব্দ: ‘অ্যানাবেল কামস হোম’ সিনেমায় অভিনেত্রী ম্যাডিসন আইসম্যান সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে ওঠার সময় বারবার ‘টোকা’-এর মতো শব্দ শুনেন
- 📌 ভৌতিক জায়গায় শুটিংয়ে ভয় পান তারকা: বলিউডের রাজকুমার রাও ‘স্ত্রী’ সিনেমার শুটিংয়ে ভৌতিক জায়গায় ভয় পেয়ে সতর্কতা মেনে চলেন
📰 বিস্তারিত
হরর সিনেমার শুটিংয়ে তারকাদের অভিজ্ঞতা প্রায়ই দর্শকদের চেয়েও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ‘ইট’ সিনেমায় অভিনয়কারী ফিন উলফহার্ড কানাডার টরন্টোর একটি পুরোনো বাড়িতে শুটিং করছিলেন। একদিন শুটিংয়ের বিরতিতে বাড়ির ওপরের তলায় ঘুরতে গিয়ে তাঁরা একটি ঘরে কালো পোশাক পরা এক অচেনা ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক কাজ করতে দেখেন। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, লোকটি শুটিং দলেরই কেউ। কিন্তু পরে জানতে পারেন, দলের কেউই তাকে চেনেন না। ঘটনাটি ফিনকে বেশ অবাক করে দেয়। তিনি স্বীকার করেছেন, কেউ হয়তো তাঁদের সঙ্গে মজা করে থাকতে পারেন, কিন্তু অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে অস্বস্তিকর ছিল।
‘দ্য কনজ্যুরিং’ সিরিজের নাম শুনলেই অনেকের মনে পড়ে বাস্তব জীবনের অতিপ্রাকৃত ঘটনা অনুসন্ধানকারী লরেইন ওয়ারেনের কথা। সিনেমায় এড ওয়ারেনের চরিত্রে অভিনয়কারী প্যাট্রিক উইলসন প্রথম সিনেমার শুটিং ঘিরে একটি আলোচিত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি জানান, শুটিংয়ের সময় শিশু অভিনেত্রী জোয়ি কিংয়ের শরীরে একসময় বেশ কিছু কালশিটে দাগ দেখতে পেয়েছিলেন। অথচ মেয়েটি কোনো স্টান্ট করেনি, এমনকি আঘাত পাওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। বিষয়টি প্যাট্রিককে অবাক করেছিল, কারণ সিনেমায়ও এমন রহস্যময় দাগের ঘটনা দেখানো হয়েছিল। শুটিংয়ের শেষ দিকে দাগগুলো আর দেখা যায়নি, কিন্তু কেন এমন হয়েছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা পাননি তিনি।
হরর সিনেমার ইতিহাসে ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ একটি স্মরণীয় নাম। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির শুটিং ঘিরেও নানা রহস্যময় গল্প ছড়িয়ে আছে। পরিচালক উইলিয়াম ফ্রিডকিন জানিয়েছিলেন, শুটিংয়ের সময় সেটে একাধিক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। একপর্যায়ে সিনেমার সেটে আগুন লাগে। তিনতলা বাড়ির আদলে তৈরি বিশাল সেটটি পুড়ে যায়। কী কারণে আগুন লেগেছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে প্রায় তিন মাস শুটিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল। আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি কবুতরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে ধাক্কা লাগার কথাও আলোচনায় এসেছিল।
‘অ্যানাবেল কামস হোম’ সিনেমায় অভিনয়কারী ম্যাডিসন আইসম্যান শুটিংয়ের সময় বেশ কয়েকটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সিনেমার শুটিং চলাকালে এক রাতে সেটের সদস্যরা আগের ‘দ্য কনজ্যুরিং’ সিনেমার শুটিংয়ের অদ্ভুত অভিজ্ঞতার গল্প শোনাচ্ছিলেন। বিশেষ করে প্যাট্রিক উইলসন ও ভেরা ফার্মিগার শুটিংয়ের সময় ঘড়ি বারবার রাত ৩টা ১৫ মিনিটে থেমে যাওয়ার গল্প তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। এরপর নিজের শুটিংয়ে অদ্ভুত কিছু ঘটনা লক্ষ করেন ম্যাডিসন। কখনো ড্রেসিংরুমের বাতি জ্বলছিল না, কখনো মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছিল না। একটি দৃশ্যের শুটিংয়ে তিনি ও সহশিল্পী ম্যাকেনা গ্রেস সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে ওঠার সময় বারবার তিনটি টোকা দেওয়ার মতো শব্দ শুনতে পান। ম্যাডিসন স্বীকার করেছেন, সেটের কাঠামো থেকেও এমন শব্দ হতে পারে, কিন্তু রাতের শুটিংয়ে ঘটনাগুলো তাঁদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।
বলিউডের হরর–কমেডি সিনেমা ‘স্ত্রী’র শুটিংয়ে রাজকুমার রাও বাস্তবেই ভয় পেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সিনেমার বেশ কিছু দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল ভৌতিক বলে পরিচিত জায়গায়। ভোপালের একটি পুরোনো স্থাপনায় রাতের বেলায় শুটিং করছিলেন সিনেমার কলাকুশলীরা। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জায়গাটি সম্পর্কে নানা ভৌতিক গল্পও শুনেছিলেন। শুটিংয়ের আগে তাঁদের কিছু সতর্কতা মেনে চলতে বলা হয়েছিল, যেমন: সুগন্ধি ব্যবহার না করা, নারীদের চুল খোলা না রাখা এবং একা বাইরে না যাওয়া।
"কেউ হয়তো তাঁদের সঙ্গে মজা করে থাকতে পারেন, কিন্তু অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে অস্বস্তিকর ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কানাডার টরন্টো, ভোপাল (ভারত), লন্ডন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফিন উলফহার্ড, প্যাট্রিক উইলসন, ম্যাডিসন আইসম্যান, রাজকুমার রাও, জোয়ি কিং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ মাস (শুটিং বন্ধ), ৩টা ১৫ মিনিট (ঘড়ি থেমে যাওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!