📌 ২ এপ্রিল ইরানে মার্কিন এফ-১৫ই বিমান বিধ্বস্ত হলে দুজন পাইলটের মধ্যে একজন ‘ব্রাভো’ নামে পরিচিত কর্মকর্তা ভাঙা পিঠ নিয়ে ইরানের দুর্গম পাহাড়ে ৫০ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন। সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, কীভাবে মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছেন এবং ৭ হাজার ফুট উঁচু পাহাড় পার করেছেন
২ এপ্রিল ইরানের পাহাড়ি এলাকায় একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে দুজন পাইলটের মধ্যে একজন ‘ব্রাভো’ নামে পরিচিত কর্মকর্তা মৃত্যুর মুখে থেকে ফিরে এসেছেন। ইরানের শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আটকে পড়ার পর তিনি ভাঙা পিঠ নিয়ে ৫০ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন এবং ৭ হাজার ফুট উঁচু পাহাড় পার করে বেঁচে গেছেন। সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন কীভাবে মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২ এপ্রিল ইরানে মার্কিন এফ-১৫ই বিমান ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বিধ্বস্ত হলে দুজন পাইলটের মধ্যে একজন ‘ব্রাভো’ নামে পরিচিত কর্মকর্তা ভাঙা পিঠ নিয়ে ৫০ ঘণ্টা ইরানের পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন।
- 📌 ৭ হাজার ফুট উঁচু পাহাড় পার করে তিনি বেঁচে গেছেন, যেখানে পিঠ, কাঁধ ও একটি হাত ভেঙে গিয়েছিল।
- 📌 প্রার্থনা করে তিনি বলেছেন, ‘প্রভু, আমি যদি বেঁচে যাই, তাহলে আমার সাহায্য দরকার’।
- 📌 মার্কিন বাহিনী শত শত সদস্যকে নিয়ে বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করে, যার মধ্যে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য ইরানে পাঠানো হয়েছিল।
- 📌 বিমানের দাম ছিল প্রায় ৩ কোটি ডলার, আর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১ লাখ ডলার।
📰 বিস্তারিত
চলতি বছরের ২ এপ্রিল ইরানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান একটি কাঁধে বহনযোগ্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়। বিমানে থাকা দুই পাইলটের মধ্যে একজন ‘আলফা’কে দ্রুত উদ্ধার করা হয়, কিন্তু অস্ত্রব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘ব্রাভো’ নামে পরিচিত কর্মকর্তা প্রায় ৫০ ঘণ্টা ইরানের শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আটকে পড়েন। পিঠে গুরুতর আঘাত পেলেও তিনি ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন।
সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে ব্রাভো বলেছেন, ‘আমি যখন দেখলাম প্যারাশুট নেই, তখন সেটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্ত’। তিনি বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করলাম—‘প্রভু, আপনার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক। কিন্তু আমি যদি বেঁচে যাই, তাহলে আমার সাহায্য দরকার’।’ তিনি ৫ মাইল দূরে মাটিতে আছড়ে পড়েন, যার ফলে পিঠ, একটি হাত এবং একটি কাঁধ ভেঙে যায়।
অন্ধকার কেটে যাওয়ার পর ব্রাভো বুঝতে পারেন যে তিনি শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আটকে পড়েছেন। তিনি সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন। তিনি দেখেন, তিনি এমন একটি উপত্যকায় রয়েছেন যার দুই পাশে খাড়া পাহাড়। তিনি ভাঙা হাড় নিয়ে ৭ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ি রিজলাইন ধরে হাঁটেন ও ওঠেন। ব্রাভো বলেন, ‘আমি শরীরে আঘাত পেয়েছি, কিন্তু আমরা সবাই যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণ নিই।’
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে মাঝরাতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানানো হয়। এরপর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। শত শত সেনাসদস্যকে আকাশপথে এবং আরও হাজারো সদস্যকে অভিযানে সহায়তার জন্য কাজে লাগানো হয়। কুপার জানান, ইরানের মাটিতে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য পাঠানো হয়েছিল।
"আমি যখন ওপরে তাকিয়ে দেখলাম কোনো প্যারাশুট নেই, তখন সেটিই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্ত। আমি থেমে গেলাম এবং প্রার্থনা করলাম—‘প্রভু, আপনার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক। কিন্তু আমি যদি এখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারি, তাহলে আমার সাহায্য দরকার’।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরানের পাহাড়ি এলাকা (ইস্পাহানের দক্ষিণ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ‘ব্রাভো’ (মার্কিন পাইলট, প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ ঘণ্টা (আটকাবস্থা), ৭ হাজার ফুট (পাহাড়ের উচ্চতা), ৩ কোটি ডলার (বিমানের দাম), ১ লাখ ডলার (ক্ষেপণাস্ত্রের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!