📌 দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিশ্বের ক্ষমতাশালী নেতাদের একত্রিত করে 'নিয়ম নির্ধারণকারী' হিসেবে উঠে আসার বার্তা দিয়েছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিরোধের মধ্যস্থতা থেকে শুরু করে ইউক্রেন যুদ্ধের উল্লেখ ছাড়াই যৌথ ঘোষণাপত্রে ঐকমত্য সাধন — এই সম্মেলন বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করছে
বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে যাওয়ার এই সময়ে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন দিল্লিতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতারা একত্রিত হয়ে 'নিয়মের অনুসারী' থেকে 'নিয়ম নির্ধারণকারী' হিসেবে উঠে আসার বার্তা দিয়েছেন। এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ান, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিল রামাফোসা সহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনে ব্রিকসের ভূমিকা: ইরান-ইউএই যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিকস সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো একাত্মতা সাধন করে 'নিয়ম নির্ধারণকারী' হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।
- 📌 ইরান-ইউএই বৈঠক: বিরোধের মধ্যস্থতা: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মুখোমুখি বৈঠক এই সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
- 📌 ইউক্রেন যুদ্ধের উল্লেখ ছাড়াই যৌথ ঘোষণাপত্র: ব্রিকসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি যৌথ ঘোষণাপত্র থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়েছে।
- 📌 পশ্চিমের বিরোধিতার বাইরে ঐকমত্য: বাণিজ্যিক শুল্ক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি উল্লেখ এড়িয়ে গেছে, যা ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে সহায়ক হয়েছে।
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান: যৌথ ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে 'সর্বোচ্চ সংযম' দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে কোনো দেশকে দায়ী করা হয়নি।
📰 বিস্তারিত
দিল্লির এই সম্মেলন বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে, ব্রিকসের সদস্যদেশগুলো একত্রিত হয়ে 'নিয়ম নির্ধারণকারী' হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন, এই জোটের লক্ষ্য হলো 'নিয়মের অনুসারী' নয়, বরং 'নিয়ম নির্ধারণকারী' হয়ে উঠা। এই ঘোষণাটি ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর জন্য একটি কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষত যখন তাদের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ ও সামরিক সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে।
এই সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মুখোমুখি বৈঠক। মাত্র কয়েক মাস আগেও এমন বৈঠক কল্পনা করা কঠিন ছিল। এই বৈঠক ইরান-ইউএই যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাপত্রে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়েছে, যা এই জোটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটনা। এছাড়াও, এই ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে 'সর্বোচ্চ সংযম' দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, এবং ইসরায়েলের বেসামরিক অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে কোনো দেশকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।
বাণিজ্যিক বিষয়ে, ঘোষণাপত্রে 'বাছবিচারহীনভাবে বাড়তে থাকা শুল্ক' ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি উল্লেখ এড়িয়ে গেছে। এটি ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে সহায়ক হয়েছে। এই সম্মেলন বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে, যেখানে ট্রাম্পের বাণিজ্যিক হুমকি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনৈতিক ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে।
"ব্রিকস ‘কারও বিরুদ্ধে নয়’ — এই বার্তাটি দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরস্পরের মধ্যে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও নিজেদের সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সি চিন পিং, ভ্লাদিমির পুতিন, মাসুদ পেজেশকিয়ান, শেখ খালেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!