📌 মিশিগান অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ওবামা ও ট্রাম্প পরপর দুই দিনে প্রচার করলেন। ওবামা সিনেট প্রার্থী আল-সাইয়েদকে সমর্থন দিলেন, আর ট্রাম্প তার ধর্মীয় পরিচয় আক্রমণ করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে প্রচার চালালেন। নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই অঙ্গরাজ্য
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরপর দুই দিনে রাজনৈতিক প্রচার চালালেন। শনিবার ডেট্রয়েটে ওবামা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার করেন, আর পরদিন পোর্ট হুরনে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন দিলেন। এই অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনটি কে জিতবে, তা নির্ধারণে এই প্রচারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওবামা শনিবার ডেট্রয়েটে সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ও গভর্নর প্রার্থী জোসলিন বেনসনকে সমর্থন দিলেন, আর ট্রাম্প পরদিন পোর্ট হুরনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পক্ষে প্রচার করলেন।
- 📌 ট্রাম্প আল-সাইয়েদের ধর্মীয় পরিচয় আক্রমণ করে বললেন, তিনি জিহাদি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য। আল-সাইয়েদ প্রত্যাখ্যান করেছেন এই দাবি।
- 📌 ওবামা বললেন, আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয়কে নির্বাচনী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে — যা আগে তাঁর বিরুদ্ধেও করা হয়েছিল।
- 📌 ট্রাম্প দাবি করেন, আল-সাইয়েদের জয় হলে যুক্তরাষ্ট্রে জিহাদিদের ঢল আসবে এবং ক্রিসমাসও উদযাপন করা যাবে না। ওবামা বললেন, ট্রাম্পের শাসনকালে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ পড়েছে।
- 📌 মিশিগানের সিনেট আসনটি কে জিতবে, তা নির্ধারণে ৩ নভেম্বর নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। জরিপে আল-সাইয়েদের সমর্থন ৫০ শতাংশ, রজার্সের ৪৮ শতাংশ — ২ শতাংশের ব্যবধান।
- 📌 আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানপন্থী সংগঠন ও ট্রাম্পের সমর্থকরা অর্থের লড়াইয়ে হাত খুলে ব্যয় করছে। ইসরায়েলপন্থী সংগঠন আইপ্যাকও বাছাই পর্বে প্রায় ৭ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল।
📰 বিস্তারিত
মিশিগান অঙ্গরাজ্য নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে দুই প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি প্রচার রাজনীতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। শনিবার ডেট্রয়েটে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার করেন। তিনি সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ও গভর্নর প্রার্থী জোসলিন বেনসনের পক্ষে কথা বললেন। ওবামা বলেন, আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয়কে নির্বাচনী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে — যা আগে তাঁর নিজের বিরুদ্ধেও করা হয়েছিল। তিনি বললেন, ‘এই সিনেমা আমরা আগেও দেখেছি। আমিও তাতে অভিনয় করেছি।’
পরদিন পোর্ট হুরনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার করেন। তিনি সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে কথা বললেন। ট্রাম্প সরাসরি আল-সাইয়েদের ধর্মীয় পরিচয় আক্রমণ করে বলেন, তিনি জিহাদি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি আল-সাইয়েদের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত করেন। আল-সাইয়েদ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর জন্ম মিশিগানে, তিনি একজন দেশপ্রেমিক আমেরিকান।
ট্রাম্পের বক্তব্যে আরেকটি বিষয় ছিল ক্রিসমাস উদযাপনের ভয়। তিনি দাবি করেন, আল-সাইয়েদ ও ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে যুক্তরাষ্ট্রে জিহাদিদের ঢল আসবে এবং সহিংসতা ও সন্ত্রাসের কারণে মানুষ ক্রিসমাসও উদ্যাপন করতে পারবে না। ওবামা অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিষয়ে ট্রাম্পের শাসনকালকে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও প্রশাসনের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, জ্বালানির দাম বাড়েছে এবং আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ওবামা বলেন, এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দাবি জানাতে হবে।
মিশিগানের সিনেট আসনটি কে জিতবে, তা নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের এই প্রতিযোগিতায় দুই দলই সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। তবে জরিপে আল-সাইয়েদের সমর্থন ৫০ শতাংশ, রজার্সের ৪৮ শতাংশ — ২ শতাংশের ব্যবধান। এই ব্যবধান জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে পড়ে, অর্থাৎ লড়াই এখনো অনিশ্চিত।
"এই সিনেমা আমরা আগেও দেখেছি। আমিও তাতে অভিনয় করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিশিগান (ডেট্রয়েট, পোর্ট হুরন), যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বারাক ওবামা, ডোনাল্ড ট্রাম্প, আবদুল আল-সাইয়েদ, মাইক রজার্স, জোসলিন বেনসন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ নভেম্বর (নির্বাচন তারিখ), ৫০% (আল-সাইয়েদের সমর্থন), ৪৮% (রজার্সের সমর্থন), ৭ কোটি ডলার (আইপ্যাকের ব্যয়), ৪০ কোটি ডলার (ইলন মাস্কের সম্ভাব্য ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!