📌 খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর মক্কায় গোত্রীয় প্রতাপের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল হিলফুল ফুজুল নামের ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের চুক্তি। তরুণ মুহাম্মদ (সা.) সহ পাঁচটি গোত্রের নেতারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা পরবর্তীতে ইসলামের আবির্ভাবেও আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়
খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ দিকে মক্কার সমাজ ছিল গোত্রপ্রধানদের অনানুষ্ঠানিক পরিষদ ‘আল-মালা’ ও গোত্রীয় পক্ষপাতিত্বের (আসাবিয়্যাহ) নিয়ন্ত্রণে। এই ব্যবস্থায় দুর্বল বা বহিরাগতদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিকার ছিল না। এই শূন্যতা পূরণে মক্কার কয়েকটি প্রভাবশালী গোত্র মিলে প্রতিষ্ঠা করে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামের ন্যায় ও সদাচারের ঐতিহাসিক চুক্তি। বিশ বছর বয়সী তরুণ মুহাম্মদ (সা.) নিজেও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগে মক্কায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘হিলফুল ফুজুল’ নামের ন্যায়বিচারের চুক্তি
- 📌 তরুণ মুহাম্মদ (সা.) সহ বনু হাশিম, বনু আল-মুত্তালিবসহ পাঁচটি গোত্রের নেতারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন
- 📌 ইয়েমেনের জুবাইদ গোত্রের এক বণিকের প্রতি অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আবু কোবাইস পাহাড়ে উঠে উচ্চৈঃস্বরে কবিতা আবৃত্তি করেন
- 📌 বণিকের আবেদনে সাড়া দিয়ে জোবাইর ইবনে আবদুল মুত্তালিব নেতৃত্বে আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের বাসভবনে জরুরি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়
- 📌 চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী গোত্রগুলো ছিল বনু হাশিম, বনু আল-মুত্তালিব, বনু আসাদ ইবনে আবদুল উজ্জা, বনু জুহরাহ ও বনু তাইম
📰 বিস্তারিত
খ্রিষ্টীয় ৫৯০ সালের কাছাকাছি সময়ে মক্কায় চার বছরের রক্তক্ষয়ী ‘হারবুল ফিজার’ যুদ্ধ শেষে সমাজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়। কেন্দ্রীয় সরকার বা স্থায়ী বিচারব্যবস্থা না থাকায় গোত্রীয় নেতারা নিজেদের স্বার্থেই বিচার করতেন। এই ব্যবস্থায় বহিরাগত বা দুর্বল ব্যক্তিরা প্রায়শই ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এমনই এক ঘটনায় ইয়েমেনের জুবাইদ গোত্রের এক বণিক মক্কায় পণ্য বিক্রি করেন কোরাইশের বনু সাহম গোত্রের নেতা আস ইবনে ওয়ায়েলের কাছে। কিন্তু পণ্য হস্তান্তরের পর আস ইবনে ওয়ায়েল মূল্য পরিশোধ করতে অস্বীকার করেন।
বণিকের আবেদনে সাড়া না পেয়ে তিনি আবু কোবাইস পাহাড়ে উঠে উচ্চৈঃস্বরে কবিতা আবৃত্তি করেন। তাঁর আবেদনে কাবা প্রাঙ্গণের নেতারা গভীরভাবে নাড়া খান। সবার আগে সাড়া দেন বনু হাশিমের প্রধান জোবাইর ইবনে আবদুল মুত্তালিব, যিনি ঘোষণা দেন এই অবিচার অমীমাংসিত রাখা যাবে না। পরবর্তীতে আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের নেতৃত্বে আবদুল মুত্তালিব, আবু তালিব, হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবসহ পাঁচটি গোত্রের নেতারা তাঁর বাসভবনে জরুরি সম্মেলন ডাকেন।
এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন বনু হাশিমের পক্ষে জোবাইর ইবনে আবদুল মুত্তালিব, আবু তালিব, হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব ও তরুণ মুহাম্মদ (সা.)। বনু তাইমের পক্ষে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে জুদআন নিজে, বনু জুহরাহ থেকে মাখরামা ইবনে নাওফাল এবং বনু আসাদ ইবনে আবদুল উজ্জার পক্ষে ছিলেন খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ, নওফল ইবনে খুওয়াইলিদ ও তরুণ হাকিম ইবনে হিজাম।
"আমি আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন একটি ন্যায়বিচারের চুক্তির সাক্ষী ছিলাম, যা আরবের মূল্যবান লাল উটের বিনিময়েও আমি ভাঙতে রাজি হতাম না। আর ইসলাম আসার পরও যদি এমন কোনো চুক্তির ডাক আসে, তবে আমি নিশ্চয় তাতে সাড়া দেব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আবু কোবাইস পাহাড়, মক্কা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তিবর্গ: মুহাম্মদ (সা.), জোবাইর ইবনে আবদুল মুত্তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে জুদআন, আস ইবনে ওয়ায়েল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: খ্রিষ্টাব্দ ৫৯০-এর কাছাকাছি সময়, আবু কোবাইস পাহাড়ের স্থানাঙ্ক ২১° ২৫′ ১৮″ উত্তর ও ৩৯° ৪৯′ ৫৪″ পূর্ব
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!