📌 মাও জেদং চীনের বিপ্লবী নেতা হয়ে ওঠেন কৃষক পরিবারের ছেলে থেকে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে মার্ক্সবাদে আগ্রহী হন তিনি। চীনের দুর্ভিক্ষ ও অস্থিরতার সময়ে বিপ্লবের পথে এগিয়ে যান মাও জেদং।
চীনের বিপ্লবী নেতা মাও জেদং কীভাবে কৃষক পরিবারের এক সাধারণ ছেলে থেকে আধুনিক চীনের অন্যতম রূপকারে পরিণত হন? তার জীবনের এই অদ্ভুত যাত্রা শুরু হয় মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের শাওশান এলাকায়। ১৮৯৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণকারী মাও জেদং তার জীবনের প্রথম দিকেই চীনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনগণের দুর্দশার সাক্ষী হন। চিং রাজবংশের শাসনামলে দেশটিতে বিরাজ করছিল অস্থিরতা ও দুরবস্থা, যা পরবর্তীকালে তার রাজনৈতিক দর্শনের গড়নকে প্রভাবিত করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাও জেদং ১৮৯৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর হুনান প্রদেশের শাওশান এলাকার কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে তার পরিবার অন্যান্যদের তুলনায় কিছুটা সচ্ছল ছিল
- 📌 পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে মাও জেদং মার্ক্সবাদী সাহিত্যের সাথে পরিচিত হন এবং মার্ক্সবাদে আগ্রহী হন
- 📌 ১৯১৯ সালে জাও উঝানের আত্মহত্যা ঘটনার প্রতিবাদে মাও জেদং দশটি আর্টিকেল লিখেন, যা তাকে রাজনৈতিক সচেতনতার দিকে পরিচালিত করে
- 📌 ১৯২৩ সালে মাও জেদং চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন এবং পরবর্তীতে নিজ দেশের দুর্গম গ্রামে স্বাধীন কমিউনিস্ট ছিটমহল গড়ে তোলেন
- 📌 মাও জেদংকে বিশ্বজুড়ে 'মাওবাদ' নামে পরিচিত রাজনৈতিক দর্শনের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়, যা দক্ষিণ এশিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তার করে
📰 বিস্তারিত
মাও জেদং চীনের বিপ্লবী নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও তার জীবনের শুরু ছিল এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলের মতো। ১৮৯৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের শাওশান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী মাও জেদং তার পরিবারের সাথে স্বচ্ছল জীবন যাপন করতেন। কিন্তু চীনে তখন চিং রাজবংশের শাসনামলে দেশটিতে বিরাজ করছিল অস্থিরতা ও জনগণের দুর্দশা। এই পরিবেশেই মাও জেদং রাজনীতিতে আগ্রহী হন।
১৯১১ সালে চীনের রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং দেশটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। কিন্তু দুর্বল জাতীয়তাবাদী সরকার এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে দেশটিতে বিভক্তির সৃষ্টি হয়। এই সময়ে মাও জেদং পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে তিনি মার্ক্সবাদী সাহিত্যের সাথে পরিচিত হন এবং মার্ক্সবাদে আগ্রহী হন। ১৯১৯ সালে জাও উঝানের আত্মহত্যা ঘটনার প্রতিবাদে মাও জেদং দশটি আর্টিকেল লিখেন, যা তাকে রাজনৈতিক সচেতনতার দিকে পরিচালিত করে।
১৯২০ সালের শুরুতে মাও জেদং চীনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা দেখে মার্ক্সবাদ ও লেনিনবাদে আগ্রহী হন। সেই সময় চীনে বন্যা, দুর্ভিক্ষ এবং সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। হাজার হাজার মানুষ রোগে ভুগে এবং অনাহারে মারা যাচ্ছিল। এই সময়ে মাও জেদং নিজের শহরে দুর্ভিক্ষের শিকার বিক্ষোভকারীদের হত্যার স্মৃতি তাকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। তিনি প্রাথমিক লড়াই শুরু করার জন্য কৃষকদের সংগঠিত করার কার্যক্রম শুরু করেন।
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব মাও জেদংকে খুব আকর্ষণ করে। সেসময় তিনি কমিউনিজম বা সাম্যবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এরপর তিনি প্রাথমিক লড়াই শুরু করেন এবং চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন। ১৯২৩ সালে তিনি হুনানে এই দলটির শাখার গেরিলা নেতা হিসেবে সেখানে একটি ব্যর্থ কমিউনিস্ট অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজ দেশের দুর্গম গ্রামে স্বাধীন কমিউনিস্ট ছিটমহল গড়ে তোলেন।
"যুদ্ধ সবকিছু বদলে দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হুনান প্রদেশ, শাওশান এলাকা, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়, চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাও জেদং, ইসাবেল হিলটন, মার্টিন পালমার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৯৩ (জন্মবছর), ২৬ (জন্ম তারিখ), ১৯১৯ (প্রতিবাদ আর্টিকেল), ১৯২৩ (কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!