📌 লাক্সরের থিবান নেক্রোপলিসের একটি সমাধিকক্ষে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রাখা হয়েছে অন্তত বিশজন মানুষ ও একটি কুকুরের মমি। স্পেনের গবেষকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রাচীন মিসরীয়দের শেষকৃত্যের ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ
প্রাচীন মিসরের সমাধিস্থলগুলো নিয়ে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। থিবান নেক্রোপলিসের একটি সমাধিকক্ষে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রাখা হয়েছে অন্তত বিশজন মানুষ ও একটি কুকুরের মমি। স্পেনের লা লাগুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন এনভায়রনমেন্টাল আর্কিওলজি’তে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 থিবান নেক্রোপলিসের একটি সমাধিকক্ষে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রাখা হয়েছে অন্তত বিশজন মানুষ ও একটি কুকুরের মমি
- 📌 সমাধিস্থলটির নাম ‘টিটি ২০৯’, যা নির্মিত হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৭৫৪ থেকে ৬৫৬ অব্দের মধ্যে
- 📌 গবেষকরা জানান, মমিগুলো এলোমেলোভাবে রাখা হয়নি, বরং পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে সাজানো হয়েছিল
- 📌 সমাধিস্থলটিতে নয়টি ভিন্ন সমাধিস্থল খুঁজে পাওয়া গেছে, যেখানে একা ও দলবদ্ধভাবে মমি রাখা হয়েছিল
- 📌 খ্রিষ্টপূর্ব ৬৮০ থেকে ৪০৪ অব্দের মধ্যে পারস্য যুগে সমাধিস্থলে মমি রাখার নিয়মে পরিবর্তন আসে
📰 বিস্তারিত
প্রাচীন মিসরের সমাধিস্থলগুলো নিয়ে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। থিবান নেক্রোপলিসের একটি সমাধিকক্ষে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রাখা হয়েছে অন্তত বিশজন মানুষ ও একটি কুকুরের মমি। স্পেনের লা লাগুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন এনভায়রনমেন্টাল আর্কিওলজি’তে।
গবেষক দলের প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক জ্যারেড কারবালো-পেরেজ জানান, এই মমিগুলো এলোমেলোভাবে রাখা হয়নি। বরং পূর্বপুরুষদের প্রতি সম্মান জানাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে সাজানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘শরীরগুলোর বিন্যাস দেখে বোঝা যায় যে এগুলো কোনো বিশৃঙ্খলভাবে ফেলা রাখা স্তূপ ছিল না।’
সমাধিস্থলটির নাম ‘টিটি ২০৯’, যা নির্মিত হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৭৫৪ থেকে ৬৫৬ অব্দের মধ্যে। এটি নুবিয়ান বা কুশীয় সাম্রাজ্যের ২৫তম রাজবংশের সময়কালে তৈরি করা হয়েছিল। গবেষক দল ভেতরের প্রতিটি মমির ছবি তোলেন এবং মমির নকশা আঁকেন। তাঁরা দেখতে পান, সমাধিস্থলটিতে নয়টি ভিন্ন সমাধিস্থল রয়েছে, যেখানে একা ও দলবদ্ধভাবে মমি রাখা হয়েছিল।
গবেষণায় আরও জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৬৮০ থেকে ৪০৪ অব্দের মধ্যে পারস্য যুগে সমাধিস্থলে মমি রাখার নিয়মে পরিবর্তন আসে। এ সময়ে সমাধিতে যেখানেই জায়গা ফাঁকা ছিল, সেখানেই মমি রাখা হতো। ফলে অনেক সময় মমির হাত-পায়ের অবস্থান বদলে সাজাতে হতো। সমাধিস্থলটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মমিই খাড়াভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল।
তবে গবেষকরা জানান, এর মানে এই নয় যে মৃতদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা কমে গিয়েছিল। কারণ, পরবর্তী যুগের অনেক মমির বুকেও হাত ভাঁজ করে রাখার চিরাচরিত নিয়ম মেনে চলা হয়েছিল। গবেষণার সহলেখক মিগেল অ্যাঞ্জেল মলিনেরো পোলো বলেন, ‘খাড়াভাবে রাখা এসব মমির কোনো কাঠের কফিন ছিল না, তবে সেগুলোকে খুব যত্ন নিয়ে মমি করা হয়েছিল।’
‘বিষয়টি বেশ চমৎকার। এতে বোঝা যায়, মানুষের সঙ্গে প্রাণীটির খুব গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল, যা আমরা সহজেই অনুভব করতে পারি।’ — জ্যারেড কারবালো-পেরেজ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: থিবান নেক্রোপলিস, লাক্সর, মিসর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যারেড কারবালো-পেরেজ (প্রত্নতাত্ত্বিক), মিগেল অ্যাঞ্জেল মলিনেরো পোলো (মিশরবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ বছর, ২০ জন মানুষ, ১টি কুকুর, ৯টি সমাধিস্থল, ২৫তম রাজবংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!