📌 এআই ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। চীন নতুন ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা’ গঠন করে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তা ও উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে সরে আসছে।
গত মাসে চীন ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা’ বা ওয়াইকো গঠনের ঘোষণা দেয়। এই প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩৮টি। ওয়াইকোর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআই সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর উদ্ভাবন ও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীন গঠন করেছে ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা’ (ওয়াইকো), যার সদস্য ৩৮টি দেশ
- 📌 এআই শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ থাকলেও সরকারগুলো এখনো ব্যর্থ
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের এআই গবেষণা ও বিনিয়োগে নেতৃত্ব রয়েছে: ২০২৫ সালে ২৮৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, ৫৯টি উল্লেখযোগ্য মডেল
- 📌 চীনও এগিয়ে যাচ্ছে: ২০২৫ সালে ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, ৩৫টি উল্লেখযোগ্য মডেল
- 📌 ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এআই নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছে
📰 বিস্তারিত
চীন সম্প্রতি ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা’ (ওয়াইকো) গঠনের ঘোষণা দেয়। এই সংস্থায় অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩৮টি। ওয়াইকোর মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআই প্রযুক্তির সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর উদ্ভাবন ও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বের বিদ্যমান এআই শাসনব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়।
এআই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। প্রযুক্তিটির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতি ও সমাজের জন্য এর সুফল নিশ্চিত করতে কার্যকর নিয়ম, প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহির ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু সরকারগুলো এখনো সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থ বলে মনে করা হচ্ছে।
এআই শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অভাব নেই। ২০১৯ সালে জি-২০-এর শেরপা হিসেবে একজন ব্যক্তি ওইসিডির সদ্য গৃহীত এআই নীতিমালা জাপানের ওসাকা সম্মেলনে অনুমোদনের জন্য নিয়ে যান। পরের বছর ওইসিডি বৈশ্বিক এআই অংশীদারত্ব গড়ে তোলে, যার সদস্য এখন ৪৬টি দেশ। এতে যোগদানের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও ওইসিডির নীতিমালা অনুমোদন করতে হয়। অথচ অনেক দেশই নীতিমালা তৈরিতে অংশ নিতে পারেনি।
২০২১ সালে ইউনেসকো এআইয়ের নৈতিকতা বিষয়ে সুপারিশমালা গ্রহণ করে। জাতিসংঘের ১৯৪টি সদস্যরাষ্ট্র এটি গ্রহণ করে। এসব সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো এআই নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালে এগুলোর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কার্যকর হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য ছিল সবচেয়ে উন্নত এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি মূল্যায়ন, ঝুঁকি নিরূপণের পদ্ধতি উন্নত করা এবং অভিন্ন নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরি করা।
কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব এখন নিরাপত্তার চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার দিকে সরে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে শক্তিশালী এআই নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের যুক্তি হলো—নিয়ন্ত্রণ উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দেবে।
"ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে শক্তিশালী এআই নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের যুক্তি হলো—নিয়ন্ত্রণ উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দেবে।"
২০২৬ সালের স্ট্যানফোর্ড এআই সূচক অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ২৮৬ বিলিয়ন ডলার। একই বছর চীনে এআই বিনিয়োগ ছিল ১২ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ৫৯টি উল্লেখযোগ্য এআই মডেল তৈরি করেছে, চীন করেছে ৩৫টি। তবে চীনা মডেলগুলো অনেক কম খরচে তৈরি হচ্ছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বৈশ্বিক পর্যায়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮টি দেশ, ৪৬টি দেশ, ১৯৪টি সদস্যরাষ্ট্র, ২৮৬ বিলিয়ন ডলার, ১২ বিলিয়ন ডলার, ৫৯টি মডেল, ৩৫টি মডেল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!