📌 লন্ডনের মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মারওয়া খায়ের। পিএসএ থেকে প্রশিক্ষক হওয়ার পথে তাঁর অসাধারণ যাত্রা ও কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো তুলে ধরেছেন প্রথম আলোর লন্ডন প্রতিনিধি
লন্ডনের মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মারওয়া খায়ের। প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্ট (পিএসএ) থেকে প্রশিক্ষক হওয়ার অসাধারণ গল্প নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় ও কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন প্রথম আলোর লন্ডন প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মারওয়া খায়ের লন্ডনের মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন, যার শুরু হয়েছিল পিএসএ হিসেবে
- 📌 তাঁর জন্ম সৌদি আরবে হলেও বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যে, তবুও তিনি বাংলা ভাষায় অনর্গল কথা বলেন
- 📌 ২০১০ সালে ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে চাকরি করলেও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নতুন পেশা খুঁজতে শুরু করেন তিনি
- 📌 ডকল্যান্ডস লাইট রেলওয়েতে (ডিএলআর) কাজ করা এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি রেলওয়েতে আবেদন করেন
- 📌 ডিএলআর ব্যবস্থা পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ৪৫টি স্টেশনে বিস্তৃত এবং প্রায় ৪০ বছর ধরে চালু রয়েছে
- 📌 পিএসএ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মারওয়া খায়ের প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করছেন
- 📌 ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের সময় মারওয়া খায়ের প্যারালিম্পিক মশাল বহনকারী ট্রেনটির অপারেটর হিসেবে নির্বাচিত হন
📰 বিস্তারিত
লন্ডনের মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত মারওয়া খায়ের। তাঁর কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্ট (পিএসএ) হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় ও কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন প্রথম আলোর লন্ডন প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম। মারওয়া খায়েরের বাংলা ভাষায় অনর্গল কথা বলার দক্ষতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
মারওয়া খায়েরের জন্ম সৌদি আরবে হলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাজ্যে। তাঁর পরিবার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তিনি তাঁর বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেন। তাঁর গান ও বাংলা ভাষা চর্চা তাঁকে অনন্য করে তুলেছে। তবে তাঁর প্রধান পরিচয় এখন লন্ডনের মেট্রোরেল ব্যবস্থায় একজন প্রশিক্ষক হিসেবে।
২০১০ সালে মারওয়া খায়ের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু ২০০৮–০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ব্যাংকিং খাতের চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে তিনি নতুন পেশা খুঁজতে শুরু করেন। তাঁর এক বন্ধু ডকল্যান্ডস লাইট রেলওয়েতে (ডিএলআর) কাজ করতেন। সেই বন্ধুর পরামর্শেই তিনি রেলওয়েতে আবেদন করেন। তুলনামূলক ভালো বেতন ও দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিশ্চয়তা তাঁকে এই পেশার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
ডিএলআর ব্যবস্থা পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ৪৫টি স্টেশনে বিস্তৃত। প্রায় ৪০ বছর ধরে চালু থাকা এই স্বয়ংক্রিয় রেলব্যবস্থা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে। স্বয়ংক্রিয় প্রতিটি ট্রেনে চালকের বদলে একজন করে পিএসএ থাকেন। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন থামার পর আবার যাত্রা শুরুর আগে দরজা নিরাপদে বন্ধ করা এবং ট্রেনকে পরবর্তী যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা পিএসএর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মারওয়া খায়ের তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য একটি মুহূর্তের কথা উল্লেখ করেন। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের সময় ক্যানারি ওয়ার্ফ থেকে প্যারালিম্পিক মশাল বহন করে স্ট্র্যাটফোর্ডে নিয়ে যাওয়া ডিএলআর ট্রেনটির অপারেটর হিসেবে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়। তাঁর ঘোষণার কণ্ঠস্বর ততদিনে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিল। বিবিসিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাঁর সেই যাত্রা ধারণ করেছিল।
"আমি যখন পিএসএ হিসেবে কাজ করতাম, তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ সিগন্যালিং সিস্টেম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারওয়া খায়ের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫টি স্টেশন, প্রায় ৪০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!