📌 ইসরায়েলের হাইফা জেলা প্রসিকিউটরদের তদন্তে জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী একটি আবাসিক বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ খালাফ ইরানের হ্যান্ডলারের নির্দেশে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন। এআই ও চ্যাটজিপিটির সহায়তায় পরিচালিত মিশনে তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি পেয়েছিলেন। শিন বেতের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগ স্বীকার করেছেন
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের তদন্তে জানা গেছে, ইরানের হয়ে গোপন গুপ্তচর মিশনে জড়িত ছিলেন একটি আবাসিক বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী। ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ খালাফ (বাকা আল-গারবিয়া) ইরানি হ্যান্ডলারের নির্দেশে বিভিন্ন গোপন কাজ সম্পন্ন করতেন এবং এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সহায়তাও নিতেন। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ বছর বয়সী ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ খালাফ ইরানের হ্যান্ডলারের নির্দেশে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন এবং এআই চ্যাটজিপিটির সহায়তায় মিশন পরিচালনা করতেন।
- 📌 ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শিন বেত তাকে গ্রেফতার করে, এবং তার মোবাইল থেকে ইরানি হ্যান্ডলারের সাথে কথোপকথন, মিশন সম্পন্ন করার ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়।
- 📌 ক্রিপ্টোকারেন্সি পেয়েছিলেন কাজের বিনিময়ে। প্রথম কাজে ১ হাজার ৫০ শেকেল পেয়েছিলেন, পরে ৩০০ শেকেল একটি শৌচাগারের লাইটে লুকিয়ে রাখেন।
- 📌 তদন্তে শিন বেত, ইসরায়েল পুলিশের লাহাভ ৪৩৩ সাইবার ইউনিট এবং আশের জেলা কেন্দ্রীয় ইউনিট যৌথভাবে কাজ করে।
- 📌 ইরানি হ্যান্ডলারের নির্দেশে খালাফ একটি স্যামসাং ফোন খুঁজে বের করেন এবং তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
- 📌 ২ অক্টোবর ২০২৬ তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, এবং তিনি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
📰 বিস্তারিত
মোহাম্মদ খালাফের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি ইরানের হ্যান্ডলারের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ থেকে। প্রথমে হ্যান্ডলার নিজেকে ‘থমাস’ নামে পরিচয় দেন, পরে ‘মার্টিন’ নামে। খালাফকে বিভিন্ন গোপন কাজের দায়িত্ব দেওয়া হতো এবং কাজ শেষে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হতো। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, খালাফ এআইয়ের সহায়তায় কাজ সম্পন্ন করতেন এবং চ্যাটজিপিটির পরামর্শও নিতেন।
তদন্তকারীরা খালাফের মোবাইল ফোন থেকে তার সঙ্গে ইরানি হ্যান্ডলারের সম্পূর্ণ কথোপকথন, মিশন সম্পন্ন করার ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। এছাড়া তার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগাযোগ ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের নথিও পাওয়া যায়।
ইরানি হ্যান্ডলারের নির্দেশে খালাফ একবার কিরিয়াত হাইমের একটি যন্ত্রপাতির দোকানের কাছে যান। সেখানে একটি গাছের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি স্যামসাং ফোন খুঁজে বের করেন। পরে হ্যান্ডলারের নির্দেশ অনুযায়ী ওই স্থানটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। কাজের বিনিময়ে তিনি ১ হাজার ৫০ শেকেল পান। এর তিন দিন পর পারদেস হান্নার একটি মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ক্রিপ্টো ওয়ালেটের অর্থ উত্তোলন করেন খালাফ। এরপর ৩০০ শেকেল একটি খামে রেখে শা’আর মেনাশে মনোরোগ হাসপাতালের কাছে ডোর আলন গ্যাস স্টেশনের একটি শৌচাগারের লাইটের ভেতর তা লুকিয়ে রাখেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, নিজেদের যোগাযোগ আড়াল করতে খালাফ ও তার হ্যান্ডলার একটি বিশেষ কৌশল ব্যবহার করতেন। একটি অ্যাকাউন্টে তারা মিশনসংক্রান্ত আলোচনা করতেন, আর খালাফের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অনুবাদের জন্য সাধারণ লেখা আদান-প্রদান করা হতো। এভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে দেওয়া অর্থকে সম্পাদনা ও অনুবাদের পারিশ্রমিক হিসেবে দেখানো হতো।
"এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মকাণ্ড নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত কার্যক্রমের অংশ। এ কারণে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের জন্য তাকে হেফাজতের বাইরে রাখলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল (বাকা আল-গারবিয়া, হাইফা, কিরিয়াত হাইম, পারদেস হান্না, শা’আর মেনাশে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ খালাফ (২৫ বছর বয়সী ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১ হাজার ৫০ শেকেল, ৩০০ শেকেল, ৪৩৩ (সাইবার ইউনিট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!