📌 কসোভোর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুক্রবার সাবেক রাষ্ট্রপতি হাশিম থাচি ও তিনজন সাবেক কেএলএ কমান্ডারকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে বিচার করবে। হাশিম থাচি ও তার সহযোগীরা দাবি অস্বীকার করলেও, অভিযোগমূলক দলিলে তাদের ৪৫ বছরের কারাদণ্ডের দাবি করা হয়েছে
কসোভোর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সাবেক রাষ্ট্রপতি হাশিম থাচি ও তিনজন সাবেক কসোভো লিবারেশন আর্মি (কেএলএ) কমান্ডারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারপতি কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেবে। হাশিম থাচি (৫৮) ও তার সহযোগী কমান্ডার জাকুপ ক্রাসনিকি, রেক্সেপ সেলিমি ও কাদ্রি ভেসেলিকে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, নির্যাতন ও নিপীড়নের দায়ে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগমূলক দলিলে তাদের প্রত্যেকের জন্য ৪৫ বছরের কারাদণ্ডের দাবি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কসোভোর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাশিম থাচি ও তিনজন কমান্ডারের বিরুদ্ধে বিচারপতি কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেবে
- 📌 অভিযোগে হাশিম থাচি ও তার সহযোগীদের ৪৫ বছরের কারাদণ্ডের দাবি করা হয়েছে
- 📌 কসোভোর অধিকাংশ আলবেনীয় জনগণ হাশিম থাচিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক হিসেবে সম্মান করে
- 📌 প্রিস্টিনায় সাত হাজারাধিক মানুষের সমাবেশে তাদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে
- 📌 অভিযোগমূলক দলিলে হাশিম থাচির বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি নির্দেশনা বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি
- 📌 কসোভো-সার্বিয়া সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত তনাতনি অবস্থা অব্যাহত রয়েছে
📰 বিস্তারিত
কসোভোর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় (১৯৯৮-৯৯) সার্বিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেএলএ-এর নেতৃত্বে থাকা হাশিম থাচি ও তার সহযোগীরা এখন যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারাধীন। অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সার্বীয় সহযোগীদের নির্যাতন ও হত্যার দায়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কসোভোর জনগণের মধ্যে এই মামলা বেশ বিতর্কিত হয়ে উঠেছে, কারণ হাশিম থাচি কসোভোর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।
সাবেক রাষ্ট্রপতি হাশিম থাচির আইনজীবী লুকা মিসেটিক ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাইব্যুনালে বলেছিলেন, “থাচির কোনো নির্দেশনা বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি যাতে তিনি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন। কোনো অপরাধী থাচির কাছে প্রতিবেদনও দিয়েছেন না।” তবে অভিযোগমূলক দলিলে বলা হয়েছে, হাশিম থাচি ও তার সহযোগীরা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সার্বীয় সহযোগীদের নির্যাতন ও হত্যা করেছিলেন।
কসোভোর স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন, যার অধিকাংশ ছিলেন আলবেনীয়। ১৯৯৯ সালে ৭৮ দিনের ন্যাটো বোমাবর্ষণের পর যুদ্ধ শেষ হয়। যুদ্ধের সময় প্রায় এক মিলিয়ন আলবেনীয় কসোভার বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে কসোভো সার্বিয়ার থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে, যা বেলগ্রেড এখনও পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার পরেও কসোভো ও সার্বিয়ার মধ্যে সম্পর্ক তনাতনি অবস্থায় রয়েছে।
"ইন দ্য নেম অব দ্য পিপল, ডিক্লেয়ার দেম ইননোসেন্ট,"
শুক্রবারের বিচারপতি কর্তৃক সিদ্ধান্তের আগে, প্রিস্টিনায় সাত হাজারাধিক মানুষের সমাবেশে হাশিম থাচি ও তার সহযোগীদের মুক্তি দাবি করা হয়েছিল। শহরের বিভিন্ন স্থানে তাদের ছবি ও একটি ডিজিটাল ঘড়ি লাগানো হয়েছিল, যেটি বিচারপতি কর্তৃক সিদ্ধান্তের সময় গণনা করছিল।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কসোভো, প্রিস্টিনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাশিম থাচি, জাকুপ ক্রাসনিকি, রেক্সেপ সেলিমি, কাদ্রি ভেসেলি, লুকা মিসেটিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ বছর (কারাদণ্ডের দাবি), ১৩,০০০ জন (যুদ্ধে নিহত), ১০ লাখ (বাড়ি ছেড়ে পালানো), ৭৮ দিন (ন্যাটো বোমাবর্ষণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!