📌 মুর্শিদাবাদের রানি নগর থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক শহীদুল শেখের স্ত্রী দেজিনা বিবি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের কোনো নথিপত্র না দেখিয়ে আটক রাখার বিরুদ্ধে তিনি আদালতে অভিযোগ করেছেন। পরিবার বলছে, স্বামী ভারতীয় নাগরিক এবং তার নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রমাণ করতে চাইছে
মুর্শিদাবাদের রানি নগর থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক শহীদুল শেখের পরিবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে। গত ৮ আগস্ট রাতে পুলিশ শহীদুলকে আটক করে নেওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী দেজিনা বিবি ও তিন সন্তানের জীবন চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। দেজিনা বিবি অভিযোগ করেছেন, স্বামীকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং পুলিশ কোনো নথিপত্র প্রদান করেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুর্শিদাবাদের রানি নগর থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক শহীদুল শেখের স্ত্রী দেজিনা বিবি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন।
- 📌 পুলিশের অভিযোগ, শহীদুল বাংলাদেশি নাগরিক। কিন্তু দেজিনা বিবি বলেছেন, তিনি ভারতীয় নাগরিক এবং তার নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রমাণ করতে চাইছেন।
- 📌 শহীদুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাপি মণ্ডল জানান, আটকের পর থেকে পুলিশ কোনো নথি বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রদান করেনি।
- 📌 কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শহীদুলের আটকের ভিত্তি উল্লেখ করে হলফনামা পেশ করতে।
- 📌 ৮ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। শহীদুলের আইনজীবী রবিউল ইসলাম বলেছেন, আটকটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
📰 বিস্তারিত
মুর্শিদাবাদের দুবাপাড়া গ্রামের কৃষক শহীদুল শেখ গত ৮ আগস্ট রাতে পুলিশের হাতে আটক হন। তার পরিবার জানায়, শহীদুলের বাবাও এই গ্রামেই বাস করেন। পুলিশের অভিযোগ, শহীদুল বাংলাদেশি নাগরিক। কিন্তু দেজিনা বিবি বলেন, ‘আমার স্বামী হঠাৎ কীভাবে বাংলাদেশি হয়ে গেলেন? আমরা সব নথি জমা দিয়েছি এবং তা অনুমোদিতও হয়েছিল। গত বিধানসভা নির্বাচনেও আমরা ভোট দিয়েছি। তাহলে কি আমরা এই দেশের নাগরিক নই?’
দেজিনা বিবি জানান, পুলিশ রাত ১২টার দিকে তাদের বাড়িতে এসে নথিপত্র দেখতে চেয়েছিল। সব দেখে শহীদুলকে তাদের সঙ্গে যেতে বলা হয়। পরদিন সকালে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানায় গিয়ে জানতে চান, কিন্তু পুলিশ কোনো উত্তর দেয়নি। তিনি বলেন, ‘তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে বা তাঁর কী হয়েছে, সেটিও জানায়নি। আমি সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। এরপর থেকে প্রতিদিনই সেখানে যাচ্ছি।’
দেজিনা বিবি বলেন, ‘প্যান কার্ড, আধার কার্ড থেকে শুরু করে বিয়ের সনদ সব নথি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল, পঞ্চায়েতের পোর্টালেও তাঁর নাম আছে। তাঁর নামে সম্পত্তিও নিবন্ধিত রয়েছে। যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশি, তা সত্য নয়। তিনি ভারতীয়।’ পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী শহীদুলের আটকজন পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। তিনি জানান, ‘আমি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাসিক সহায়তা পাই। আমাদের বাড়ি নির্মাণের জন্যও সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। আমার সন্তানদের মধ্যে বড় মেয়ে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট দুই ছেলে স্কুলে যেতে চায় না, ঠিকমতো খেতেও চায় না। তারা শুধু বাবার জন্য কাঁদে। তিনিই একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন।’
সাম্প্রতিক বন্যায় পরিবারের মালিকানাধীন জমিগুলো পানিতে ভেসে গেছে। দেজিনা বলেন, ‘তিনি কৃষক ছিলেন। এখন পরিবারের কোনো উপার্জনকারী নেই। আমার সন্তানরাও কাজ করার মতো বয়সে পৌঁছায়নি।’
"আটক ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাগরিক। তাঁর কাছে ভোটার কার্ড, আধার, প্যান কার্ড, দলিল, রেশন কার্ডসহ অন্যান্য বৈধ নথি রয়েছে। কোনো ধরনের আইনি কার্যক্রম বা তদন্ত ছাড়াই ৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে তাঁকে সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করে রাখা হয়েছে। এটি মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।"
— অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম, শহীদুলের আইনজীবী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুর্শিদাবাদ (রানি নগর), কলকাতা, দুবাপাড়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দেজিনা বিবি, শহীদুল শেখ, অ্যাডভোকেট বাপি মণ্ডল, অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ আগস্ট (আটক তারিখ), ৩৪ বছর (দেজিনা বিবির বয়স), ১২ টা (রাত), ১০ দিন (প্রতিবেদন জমা দিতে), ৮ অক্টোবর (পরবর্তী শুনানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!