📌 তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় কৈলাস মানস সরোবর যাত্রাপথ বিধ্বস্ত। অন্তত ১৭৭ জনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৫০০ নিখোঁজের ঘটনায় আলোচনায় তীর্থযাত্রার তিনটি প্রধান পথ
চীনের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার তিনটি প্রধান পথ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৭৭ জনের, নিখোঁজ প্রায় ১ হাজার ৫০০
- 📌 ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রী এখনও নিখোঁজ
- 📌 কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার তিনটি প্রধান পথের মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত
- 📌 হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মানস সরোবরের পানিতে স্নান করলে মোক্ষলাভ সম্ভব
📰 বিস্তারিত
গত বুধবার নেপালের রসুয়া জেলায় তিব্বত সীমান্ত থেকে কাদামাটি ও পাথর নেমে আসায় ভয়াবহ ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তিব্বত ও নেপাল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিপর্যয়ের ফলে কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর যাত্রার প্রধান তিনটি পথের মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাস পর্বত দেবতা শিব ও দেবী পার্বতীর আবাসস্থল। মানস সরোবরকে পুণ্য হ্রদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই হ্রদের পানিতে স্নান করলে পাপমুক্তি ঘটে এবং মোক্ষলাভ করা যায়। ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী, মানুষের আত্মা যখন সংসার ও পুনর্জন্মের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে পরম সত্যের সঙ্গে একাত্ম হয়, তখন তাকে মোক্ষলাভ বলা হয়।
কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান তীর্থযাত্রা। এই যাত্রায় তীর্থযাত্রীরা চীনের তিব্বতে অবস্থিত কৈলাস পর্বত (৬ হাজার ৬৩৮ মিটার উঁচু) ও মানস সরোবর হ্রদে যান। ভারত ও চীনের মধ্যে চুক্তির পর ১৯৮১ সালে এই তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু হয়। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় বছর পর ২০২৫ সালে আবার এই যাত্রা চালু হয়।
তীর্থযাত্রীরা তিনটি প্রধান পথ ব্যবহার করেন। প্রথম পথটি হলো লিপুলেখ পাস রুট (উত্তরাখণ্ড)। এই পথটি দিল্লি থেকে শুরু হয়ে আলমোড়া ও ধারচুলা হয়ে গুঞ্জি ও লিপুলেখ পাস (৫ হাজার ২০০ মিটার উঁচু) অতিক্রম করে তিব্বতে প্রবেশ করে। দ্বিতীয় পথটি হলো নাথু লা পাস (সিকিম)। এই পথটি দিল্লি থেকে গ্যাংটক হয়ে নাথু লা পাস অতিক্রম করে তিব্বতে প্রবেশ করে। তৃতীয় পথটি হলো কাঠমান্ডু (নেপাল) রুট। এই পথটি তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও গতকালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
"কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। এই যাত্রায় তীর্থযাত্রীদের ৪ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়, যেখানে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রসুয়া জেলা, নেপাল ও তিব্বত
- 👥 মৃত্যু: ১৭৭ জন (নিশ্চিত)
- 🔢 নিখোঁজ: প্রায় ১ হাজার ৫০০
- 🔢 উচ্চতা: কৈলাস পর্বত ৬ হাজার ৬৩৮ মিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!