📌 অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা তিনজনকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করেছে। হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে
অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার পরিচালিত এই হামলায় তিনজনকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা একটি গাড়িতে থাকা তিন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলি বিমান হামলায় জেনিনে তিন ফিলিস্তিনি নিহত
- 📌 ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তিনজনকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করেছে
- 📌 হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে
- 📌 জেনিন শহরের পশ্চিমাঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা চালানো হয়
- 📌 ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের কর্মীদের আটক ও হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা শুক্রবার জেনিন শহরে একটি বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তিনজনকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করেছে। তাদের মধ্যে একজনকে হামাসের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুইজনকে তার সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ জানায়, নিহত ব্যক্তি তাদের সশস্ত্র শাখার একজন সিনিয়র সদস্য ছিলেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানান, হামলাটি তিন ব্যক্তিকে বহনকারী একটি গাড়ির ওপর চালানো হয়েছিল।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স সেবা জানায়, ইসরায়েলি ভূমি সেনারা ড্রোন হামলার স্থানে অভিযান চালায়। তারা চিকিৎসকদের আটক করে এবং আহত বা নিহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেয়। রেড ক্রিসেন্ট আরও জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাদের কর্মীদেরও আটক করা হয়।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, জেনিন শহরের পশ্চিমাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই হামলায় তিনজন ফিলিস্তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন। এএফপি নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনারা জেনিন শহরের উপকণ্ঠে নির্মাণাধীন একটি বাড়ি থেকে একটি মৃতদেহ সরিয়ে নিচ্ছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক্স পোস্টে এই হামলাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি তিন ব্যক্তিকে থামানোর একটি ‘সফল প্রতিরোধ’ ছিল। হামলার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও শিন বেটকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জেনিন শিবির থেকে বাসিন্দাদের ‘খালি করা হয়েছে’। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখন সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছে, যেভাবে পশ্চিম তীরের অন্যান্য ‘সন্ত্রাসী শিবিরে’ অবস্থান করা হয়।
"Stop these crimes and end impunity"
হামাস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে ‘দখলদারিত্বের বোমা হামলায় শহীদ হওয়া শহীদদের জন্য শোক প্রকাশ করে’। তারা জানায়, ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের ভূমি ও অধিকারের প্রতি অবিচল থাকবে। গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা যেন ‘এই অপরাধ বন্ধ করতে এবং দায়মুক্তির অবসান ঘটাতে’ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা ইসরায়েলকে এই হামলার জন্য ‘সম্পূর্ণভাবে দায়ী’ করার আহ্বান জানায়।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের হামলা বিরল হয়ে উঠেছিল। গত অক্টোবর ৭, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া গণহত্যামূলক যুদ্ধের পর থেকে গাজা উপত্যকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলেও পশ্চিম তীরে সামরিক হামলা বিরল ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি সেনারা পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে অভিযান চালাতে শুরু করেছে। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে সেখানে ইসরায়েলি সেনারা হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে, আলাদা ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি বোর্ডের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ সতর্ক করে বলেন, উভয় পক্ষের শান্তির রোডম্যাপ অনুসরণে ব্যর্থতা ‘গাজা যুদ্ধবিরতির ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জেনিন, পশ্চিম তীর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন নিহত, ৫ জন গাজায় নিহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!