📌 পোষা পিঁপড়া পালনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কেনিয়ায় বিরল আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়ার ব্যাপক পাচার চলছে। বিমানবন্দর থেকে জীবিত অবস্থায় পাচারকালে ধরা পড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান থাকলেও পরিবেশবিদরা বলছেন, এটি কেবল ক্ষুদ্র অংশ মাত্র
কেনিয়ায় বিরল আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়ার রানি পাচারের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বৈশ্বিকভাবে পোষা পিঁপড়া পালনের শখ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ নিয়ে দেশটিতে গড়ে উঠেছে মূল্যবান পিঁপড়ার কালোবাজার। গত ২৬ আগস্ট প্রকাশিত দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে নাইরোবি বিমানবন্দর থেকে জীবিত অবস্থায় চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে ২ হাজার ২০০-এর বেশি আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়া উদ্ধার করে কেনিয়ার কর্তৃপক্ষ। পিঁপড়াগুলোকে ছোট প্লাস্টিকের নলের মধ্যে রাখা হয়েছিল, যার মুখে ভেজা তুলা দেওয়া ছিল যাতে দীর্ঘ সময় তারা বেঁচে থাকতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি বছরের শুরুতে নাইরোবি বিমানবন্দর থেকে জীবিত অবস্থায় চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে ২ হাজার ২০০-এর বেশি আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়া উদ্ধার
- 📌 পিঁপড়াগুলোকে ছোট প্লাস্টিকের নলের মধ্যে রাখা হয়েছিল, মুখে ভেজা তুলা দেওয়া ছিল
- 📌 গত এপ্রিলে ওই পাচারকারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়
- 📌 গত বছর প্রায় ৫ হাজার পিঁপড়া পাচারের অভিযোগে দুই বেলজিয়ান কিশোরকে গ্রেপ্তার
- 📌 আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়ার রানির আন্তর্জাতিক কালোবাজারে দাম ২০০ ডলারেরও বেশি
- 📌 একটি উপনিবেশে সাধারণত একটি মাত্র প্রজননক্ষম রানি থাকে, যা প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে
📰 বিস্তারিত
কেনিয়ার পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, বিরল আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়ার ব্যাপক সংগ্রহ দেশটির বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিঁপড়ার রানি বিশেষভাবে মূল্যবান হওয়ায় এদের অবৈধ সংগ্রহ চলছে। কেনিয়ায় একটি রানির দাম মাত্র ৩ ডলারের কাছাকাছি হলেও আন্তর্জাতিক কালোবাজারে এর দাম ২০০ ডলারেরও বেশি। পরিবেশবিদদের মতে, একটি উপনিবেশে সাধারণত একটি মাত্র প্রজননক্ষম রানি থাকে, যা প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে এবং হাজার হাজার কর্মী পিঁপড়ার জন্ম দিতে পারে।
পিঁপড়ার উপনিবেশ পর্যবেক্ষণ বৈশ্বিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও চ্যানেলে পিঁপড়ার উপনিবেশের গল্প প্রকৃতিবিষয়ক তথ্যচিত্রের মতো তুলে ধরা হয়। এসব ক্ষুদ্র ‘পিঁপড়া নগরী’তে পিঁপড়ার সুড়ঙ্গ খোঁড়া, খাবার সংগ্রহ ও সামাজিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে বিরল প্রজাতির চাহিদা বৈধ সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় পাচারের ঘটনা বাড়ছে।
গত বছর প্রায় ৫ হাজার পিঁপড়া পাচারের অভিযোগে দুই বেলজিয়ান কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে নাইরোবি বিমানবন্দর থেকে জীবিত অবস্থায় চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে ২ হাজার ২০০-এর বেশি আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়া উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গত এপ্রিলে ওই পাচারকারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
"পোষা পিঁপড়া পালনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে বিরল প্রজাতির পিঁপড়ার চাহিদা বেড়েছে। তবে এর ফলে দেশটির বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাইরোবি, কেনিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পাচারকারী, দুই বেলজিয়ান কিশোর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার ২০০, ৫ হাজার, ৩ ডলার, ২০০ ডলার, ২৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!