📌 কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের শতবর্ষ পালন করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আলোচনা, আবৃত্তি ও গানের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যিক অবদানকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর সাহিত্যকে সমকালীন সংকটের সঙ্গে তুলনা করেন
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন করেছে। ‘বন্ধু আজকে দোদুল্যমান পৃথ্বী, আমরা গঠন করব নতুন ভিত্তি’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে আলোচনা, আবৃত্তি ও গানের মাধ্যমে কবির সাহিত্যিক অবদানকে স্মরণ করা হয়। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ
- 📌 আলোচনা করেন অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, অমিত রঞ্জন দে, প্রদীপ ঘোষ, মামুন সিদ্দিকী ও আবুল খায়ের
- 📌 সুকান্তের সাহিত্যিক জীবন ছিল মাত্র ছয় থেকে সাত বছর
- 📌 অনুষ্ঠানে শত প্রদীপ প্রজ্বালন ও ‘ছাড়পত্র’ কবিতা পাঠ করা হয়
- 📌 গান পরিবেশন করেন অলক দাশগুপ্ত, জয়া সেনগুপ্তা, শাওন কুমার রায় প্রমুখ
- 📌 সম্মেলক আবৃত্তি পরিবেশন করে উদীচী কেন্দ্রীয় আবৃত্তি বিভাগ
📰 বিস্তারিত
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সহসাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ, লেখক-গবেষক মামুন সিদ্দিকী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবুল খায়ের। আলোচকেরা উল্লেখ করেন যে সুকান্তের সাহিত্যিক জীবন ছিল মাত্র ছয় থেকে সাত বছরের হলেও তাঁর সৃষ্টি দশকের পর দশক ধরে বাঙালিদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
তাঁরা বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা শুধু সাহিত্যের দায় বহন করেনি, বরং মতাদর্শ, রাজনীতি ও নিজ দলের প্রতিও ভূমিকা পালন করেছে। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা এবং মহাযুদ্ধের বিভীষিকাময় সময়ে জনগণের সংগ্রামের সঙ্গী ছিলেন তিনি। আলোচকেরা আরও বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির পরিবর্তন সত্ত্বেও বৈষম্য, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের চাপ, শ্রমজীবী মানুষের অনিশ্চয়তা, দুর্নীতি ও পরিবেশগত সংকটের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো রয়ে গেছে। ফলে সুকান্ত আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
আলোচনা পর্ব শেষে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা মহানগর সংসদের নেতা-কর্মীরা সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শত প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে তাঁদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন সবাইকে সুকান্তের ‘ছাড়পত্র’ কবিতাটি পাঠ করান।
"আমাদের জীবদ্দশায় আমাদের নানা সংগ্রাম ও আন্দোলনে সুকান্ত আমাদের পাশে থেকে হাজার সুকান্ত হয়ে আজও যুদ্ধ করেন তাঁর তীক্ষ্ণ কবিতা আর গানের অস্ত্র নিয়ে। যেখানেই সংগ্রাম-যুদ্ধ, সেখানেই সুকান্ত।"
অনুষ্ঠানে সুকান্তের লেখা ‘অবাক পৃথিবী’ গানটির সঙ্গে ধৃতি নর্তনালয়ের শিল্পীরা দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। উদীচীর সংগীত বিভাগের শিল্পীরা কবির কবিতায় সুরারোপিত গান পরিবেশন করেন। একক সংগীত পরিবেশন করেন অলক দাশগুপ্ত, জয়া সেনগুপ্তা, শাওন কুমার রায়, সরস্বতী সরকার ও বিজয় বণিক।
‘বন্ধু আজকে দোদুল্যমান পৃথ্বী, আমরা গঠন করব নতুন ভিত্তি’ শীর্ষক সম্মেলক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় আবৃত্তি বিভাগের শিল্পীরা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাসুদুজ্জামান, শিখা সেনগুপ্তা ও সুমিত পাল। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে স্রোত আবৃত্তি সংসদ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগীতা ইমাম, মিতা রায় ও শেখ আনিসুর রহমান।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আগারগাঁও, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুকান্ত ভট্টাচার্য, এম এম আকাশ, অমিত রঞ্জন দে, মাহমুদ সেলিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ছয় থেকে সাত বছর (সাহিত্যিক জীবনকাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!