📌 ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের ১৮০ জন ফিলিস্তিনি শিক্ষকদের ভিসা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। শিক্ষকদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা, ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তক বাধ্যতামূলক করার চাপ এবং ধর্মীয় স্থান থেকে দূরে রাখার নীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি শিক্ষকদের ভিসা বাতিলের হুমকি দিয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। ৬৬ বছর বয়সী রসায়ন শিক্ষক জামাল শালাবি বলেছেন, তার মতো ১৮০ জন শিক্ষককে তাদের ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হবে। শালাবি দৈনিক চেকপয়েন্ট পার হয়ে পূর্ব জেরুজালেমের স্কুলে পাঠদান করতেন, কিন্তু এখন তার ভবিষ্যত অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৮০ জন ফিলিস্তিনি শিক্ষক**কে পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শেষে।
- 📌 **ভিসা সীমাবদ্ধতা** বাড়িয়ে ইসরায়েল শিক্ষকদের স্কুলের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না — এমনকি **আল-আকসা মসজিদে** নামাজ পড়ারও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
- 📌 **ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তক বাধ্যতামূলক** করার চাপ বাড়িয়ে ইসরায়েল সরকার **৫০% শিক্ষা বাজেট** পূর্ব জেরুজালেমের স্কুলগুলিতে ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তক চালু করতে দিচ্ছে।
- 📌 **২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধের পর** থেকে শিক্ষকদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা আরো কঠোর হয়ে পড়েছে — **সুক্কোত উৎসবের সময়** পুরো সপ্তাহ ধরে পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।
- 📌 **ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ইর আমিম** জানিয়েছে, এই নীতিগুলি ফিলিস্তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলছে।
📰 বিস্তারিত
৬৬ বছর বয়সী জামাল শালাবি দীর্ঘ ২৮ বছর পূর্ব জেরুজালেমের একটি স্কুলে রসায়ন শিক্ষকতা করছেন। তিনি বলেন, “ভিসা বাতিলের হুমকি আমাদের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা স্কুলের বাইরে যেতে পারি না — এমনকি **আল-আকসা মসজিদে** নামাজ পড়ারও অনুমতি নেই। এছাড়াও, **শিক্ষার্থীদের স্কুলের বাইরে সফর** করার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “**সুক্কোত উৎসবের সময়** প্রথমবারের মতো আমাদের পুরো সপ্তাহ ধরে পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।”
ইসরায়েলের এই নীতিগুলি শুধু শিক্ষকদের ভিসা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইসরায়েল সরকার **সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে** ঘোষিত একটি পরিকল্পনা অনুসারে, পূর্ব জেরুজালেমের স্কুলগুলিতে **ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তক** চালু করার চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিকল্পনার অধীনে, **৫০% শিক্ষা বাজেট** পূর্ব জেরুজালেমের স্কুলগুলিতে ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তক চালু করার জন্য ব্যবহার করা হবে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা **ইর আমিম** জানিয়েছে, এই নীতি ফিলিস্তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলছে।
২০২০ সালের তুলনায় **১০,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী** এখন ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তক পড়ছে। ইর আমিমের প্রতিবেদন বলছে, এই নীতিগুলি ফিলিস্তিনি শিক্ষকদের নিয়োগেও বাধা সৃষ্টি করছে — যারা ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাদের নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
"এই ভিসা সীমাবদ্ধতা **২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধের পর** থেকে আরো কঠোর হয়ে পড়েছে। আমরা **আল-আকসা মসজিদে** নামাজ পড়তে পারি না, শিক্ষার্থীদের স্কুলের বাইরে সফর করার অনুমতি নেই। এছাড়াও, **সুক্কোত উৎসবের সময়** পুরো সপ্তাহ ধরে পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পূর্ব জেরুজালেম, ফিলিস্তিনি অঞ্চল (ইসরায়েলের অধীন)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: জামাল শালাবি (৬৬ বছর, রসায়ন শিক্ষক), ইর আমিম (ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮০ জন শিক্ষক, ৫০% শিক্ষা বাজেট, ১০,০০০+ শিক্ষার্থী (ইসরায়েলি পাঠ্যপুস্তক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!