📌 ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু থেকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিন প্রশ্নে নীতিগত পরিবর্তন আসবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উভয় নেতার মধ্যে মূল লক্ষ্য একই হলেও কৌশল ও পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে
ইসরায়েলের রাজনীতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা থাকলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য তা কি কোনো নীতিগত পরিবর্তন আনে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েলের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনে না, এমনই ধারণা পেশ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল পেয়েছে ৫৩টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার ১৫টি কম। গাদি আইজেনকটের দল পেয়েছে ৪৮টি আসন।
- 📌 নতুন নেসেটের ১২০ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- 📌 নেতানিয়াহু ও আইজেনকট উভয়েই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী, কিন্তু কৌশল ও লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে।
- 📌 আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে ইউনাইটেড আরব লিস্ট, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন থেকে।
- 📌 ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে আইজেনকটের কৌশল কঠোর থাকবে, কিন্তু ফিলিস্তিন প্রশ্নে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আশা করা যাবে না।
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিকল্প হিসেবে গাদি আইজেনকটের সম্ভাব্য উত্থান ফিলিস্তিনিদের সামনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে, এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী হলে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নীতিতে আদৌ কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসবে, নাকি কেবল আগ্রাসনের ধরন ও ভাষা বদলাবে?
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির নির্বাচনে পেয়েছে ৫৩টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার ১৫টি কম। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন দল পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই। তবে ইউনাইটেড আরব লিস্টের সমর্থন, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের অবস্থান পরিবর্তন এবং জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন ও নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নতুন নেসেটের ১২০ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ডানপন্থী অথবা উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন। অর্থাৎ, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালেও ইসরায়েলের রাজনৈতিক কাঠামোর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ডানপন্থী অবস্থানেই থাকবে। ফলে কোনো নতুন সরকার ফিলিস্তিন প্রশ্নে মৌলিক ছাড় দিতে চাইলে সাংসদীয় ও রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়বে।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের মধ্যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে মৌলিক কোনো মতপার্থক্য নেই। উভয় পক্ষই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী এবং জায়নবাদী রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পার্থক্য মূলত অগ্রাধিকার, কৌশল এবং লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতিতে। নেতানিয়াহুর সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, ভূখণ্ড দখল এবং নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা। অন্যদিকে, আইজেনকটের সম্ভাব্য সরকারের কৌশল কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তারা ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে। তবে তাদের প্রধান লক্ষ্য তেহরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি গুঁড়িয়ে দেওয়া।
"আইজেনকটের সরকার গঠিত হলেও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না। তিনি নিজেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল, ফিলিস্তিন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, গাদি আইজেনকট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩টি আসন (নেতানিয়াহুর দল), ৪৮টি আসন (আইজেনকটের দল), ১২০ সদস্য (নতুন নেসেট), ৯০ জন (ডানপন্থী রাজনীতিবিদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!