📌 গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ২৪ জন সদস্যের জবানবন্দিতে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার গোপন পদ্ধতি উন্মোচিত হয়েছে। অস্কারজয়ী নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোরের প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা, ফোন হ্যাক করে নিশানা করা এবং এলাকার ২৫% বাসিন্দা থাকলেও পুরো এলাকার ধ্বংসের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গোপন কৌশল ও বেসামরিক ফিলিস্তিনি নাগরিকদের হত্যার পদ্ধতি ফাঁস হয়েছে একটি নতুন প্রামাণ্যচিত্রে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ২৪ জন সদস্যের জবানবন্দিতে এসব তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। অস্কারজয়ী নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোরের প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ (এনএজেডএ) গতকাল ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এটি ‘গোল্ডেন লায়ন’ পুরস্কারের লড়াইয়ে থাকা একমাত্র প্রামাণ্যচিত্র।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ২৪ জন সদস্যের জবানবন্দিতে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার গোপন পদ্ধতি উন্মোচিত হয়েছে।
- 📌 প্রামাণ্যচিত্রে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সেনাদের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যারা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালাতেন এবং দূরনিয়ন্ত্রিত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
- 📌 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে হামাসের নিচু স্তরের সদস্যকে চিহ্নিত করে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হতো।
- 📌 ইসরায়েলি বাহিনী ফোন হ্যাক করে নিশানা করা যোদ্ধাদের কথা শুনত এবং সপরিবার হত্যা করার আগ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথা বলত।
- 📌 প্রামাণ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজার প্রায় ২৫ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের ঘরে থাকলেও পুরো এলাকা ধ্বংস করা হয়েছিল।
- 📌 প্রামাণ্যচিত্রে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি সংযোগে থাকা একটি গোপন গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যদের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যাদের মূল মিশন ছিল ‘শান্তি বিনষ্ট করা’।
📰 বিস্তারিত
‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রের নামকরণ করা হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি সংক্ষিপ্ত শব্দ থেকে, যা সম্ভাব্য নিহত সাধারণ নাগরিকদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রযোজিত এই প্রামাণ্যচিত্রে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সেনাদের বিস্তারিত জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতারা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দূরনিয়ন্ত্রিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের শিল্পনির্দেশক আলবার্তো বারবেরা বলেছেন, ‘নাজা’ হবে ‘সত্যিই যুগান্তকারী’। তিনি একে রাজনৈতিকভাবে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ও সিনেমার দিক থেকে অত্যন্ত চমৎকার কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। সাক্ষাৎকারগুলো নেওয়ার সময় পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদে রাতে এসব সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রামাণ্যচিত্রে অংশগ্রহণকারীদের চেহারা ও কণ্ঠ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।
প্রামাণ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামাসের নিচু স্তরের সদস্যকে চিহ্নিত করত। এরপর পরিবারের সদস্যরাও নিহত হবেন জেনেও রাতের বেলা তাঁদের বাড়িতে বোমা হামলা চালানো হতো। নিশানা করা সম্ভাব্য হামাস যোদ্ধাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করতে ইসরায়েলি বাহিনী তাঁদের ফোন হ্যাক করত। এরপর সপরিবার হত্যা করার ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে তাঁদের কথোপকথন গোপনে শুনত তারা।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে কিছু প্রত্যক্ষ বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর হিসাবেই প্রায় ২৫ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের ঘরে থাকলেও পুরো এলাকা ধ্বংস করা, সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ঘটনা।
"আমাদের দেশ যে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নির্বিচার হত্যার জন্য দায়ী, তার নেপথ্যের কলকাঠি ও ব্যবস্থাগুলো খতিয়ে দেখার একটি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা ছবিটি তৈরি করেছি। ইসরায়েলি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিক হিসেবে আমাদের অবস্থানের জায়গা থেকে আমরা এ দায়িত্ব পালন করেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা (ফিলিস্তিন), ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব (ইতালি), তেল আবিব (ইসরায়েল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউভাল আব্রাহাম, র্যাচেল জোর, আলবার্তো বারবেরা, ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সেনা সদস্য (২৪ জন), ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ জন সদস্য, ২৫ শতাংশ বাসিন্দা, ৯৭২ ম্যাগাজিন (ফিলিস্তিনি প্রকাশনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!