📌 ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে আরব দল দুটি রেকর্ড ভোট পেয়েছে। বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, তাদের পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সাফল্য নেতানিয়াহুর সরকারের পতনের পথ সুগম করতে পারে।
ইসরায়েলের মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আরব সম্প্রদায়ের দুটি প্রধান দলের সাফল্য দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বিপ্লবী পরিবর্তন আনে যেতে পারে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে তাদের জোরালো অবস্থান এবং রেকর্ডসংখ্যক ভোটের মাধ্যমে তারা সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যমের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাআম) এবং জয়েন্ট লিস্ট এই দুটি দল পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে আরব দল দুটি রেকর্ড ভোট পেয়েছে, যা নেতানিয়াহুর সরকারের পতনের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে
- 📌 রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস বলেছেন, আরব ভোটাররা 'হতাশা' থেকে 'আশা' রূপান্তর করেছেন এবং নেতানিয়াহুর সরকারের পরিবর্তন চান
- 📌 ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব, কিন্তু তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ কম ছিল
- 📌 ৩৯ বছর বয়সী আরব-ইসরায়েলি ভোটার খুলুদ আল-জেইনাতি বলেছেন, 'আমরা পরিবর্তন চাই' এবং তাদের ভোট সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
- 📌 রাআম ২০২১ সালে ইসরায়েলের জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল, কিন্তু নেতানিয়াহুর সরকারের পতনের সম্ভাবনা এবার আরব দলগুলোর সাফল্যের কারণে তৈরি হতে পারে
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আরব দল দুটি রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিবর্তন আনতে পারে। ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাআম) এবং জয়েন্ট লিস্ট এই দুটি দলের সাফল্য ইসরায়েলের প্রধান দুই জোটের মধ্যে সরকার গঠনের ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, এই দল দুটি পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে পারে। রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আরব ভোটারদের এই উপস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা নিজেদের 'হতাশা ও নিরাশা'কে 'আশায়' রূপান্তর করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি 'সম্ভাব্য সব উপায়ে' নেতানিয়াহুর সরকারের পরিবর্তন চান এবং এমন একটি সরকার গঠনের সুযোগ নিশ্চিত করতে চান, যার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই আরব। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনেক আরব ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন। এই নির্বাচনে অনেক আরব ভোটার বলেছেন, পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি নেতানিয়াহুর আচরণে তারা ক্ষুব্ধ। তারা মনে করেন, ইসরায়েলের ভেতরেও ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হয়। এই কারণে তারা সরকারের বিভিন্ন নীতিকে দায়ী করেন। নির্বাচনী প্রচারজুড়েও নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে আরববিদ্বেষী মনোভাব কাজে লাগিয়ে ভোট চেয়েছিলেন।
৩৯ বছর বয়সী আরব-ইসরায়েলি ভোটার খুলুদ আল-জেইনাতি লোদ শহরে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'আমি খুব আশাবাদী। মানুষ বুঝতে পারছে, এটা সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। আমরা পরিবর্তন চাই।' খুলুদ আরও বলেছেন, 'জীবনের নানা ক্ষেত্রে আরব সম্প্রদায়কেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়। তাই আমাদের ঘর থেকে বেরিয়ে ভোটে অংশ নেওয়া জরুরি।' তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তা ঠিক করতে তাদের ভোট সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
"আমি খুব আশাবাদী। মানুষ বুঝতে পারছে, এটা সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। আমরা পরিবর্তন চাই।"
রাআম ২০২১ সালে ইসরায়েলের জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল, কিন্তু নেতানিয়াহুর সরকারের পতনের সম্ভাবনা এবার আরব দলগুলোর সাফল্যের কারণে তৈরি হতে পারে। রাআম ওই সরকারের শরিক হওয়ায় অনেক ডানপন্থী ইহুদি ভোটার ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। প্রায় এক বছর পর বেনেটের সরকারের পতন হয়। এরপর ওই ভোটাররা নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেন। তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ইহুদিবাদী সরকার গঠন করেন। এখন নেতানিয়াহুর সেই সরকারেরই ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর যে নির্বাচনী ফল এই সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আরব ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল (লোদ শহর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনসুর আব্বাস (রাআম নেতা), খুলুদ আল-জেইনাতি (৩৯ বছর বয়সী আরব-ইসরায়েলি ভোটার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ শতাংশ (ইসরায়েলের জনসংখ্যার আরব অংশ), ৩৯ বছর (খুলুদ আল-জেইনাতির বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!