📌 দুই বছর পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে তারা গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে বহনকারী বেসামরিক গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল। আন্তর্জাতিক তদন্তে উঠে এসেছে দ্বৈত আক্রমণের চিত্র, যেখানে প্রাথমিক হামলার তিন ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী এম্বুলেন্সেও চালানো হয় গোলাবর্ষণ।
গাজা উপত্যকায় দুই বছর আগে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে তারা পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে বহনকারী বেসামরিক যানটিতে গুলিবর্ষণ করেছিল। আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র চাপ ও অস্বীকারের পর অবশেষে এই স্বীকারোক্তি এলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে গাজা শহরের একটি এলাকা থেকে ইসরায়েলি ইভ্যাকুয়েশন আদেশ অনুসরণ করে পালানোর সময় হিন্দ রাজাবসহ তার পরিবারের সদস্যরা একটি কালো কিয়া গাড়িতে ছিলেন
- 📌 ইসরায়েলি বাহিনী গাড়িটিতে ৩০০টিরও বেশি গুলি চালায়, যার ফলে ছয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ছিলেন তার ১৫ বছর বয়সী চাচাতো ভাই লায়ান
- 📌 আহত হিন্দ রাজাব কয়েক ঘণ্টা ধরে জীবিত ছিলেন এবং ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীদের কাছে ফোনে তার শেষ কথাগুলো বলেছিলেন: “আমি খুব ভয় পেয়েছি… দয়া করে আসুন।”
- 📌 প্রাথমিক হামলার তিন ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী এম্বুলেন্সে চালানো হয় ১২০ মিলিমিটার ট্যাঙ্ক গোলা, যার ফলে দুই এম্বুলেন্স কর্মী নিহত হন
- 📌 আন্তর্জাতিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে ইসরায়েলি বাহিনী দ্বৈত আক্রমণ চালিয়েছিল, যেখানে প্রাথমিক হামলার পর উদ্ধারকারী দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল
- 📌 হিন্দ রাজাবের মৃত্যুর পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল যে তাদের সৈন্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না
- 📌 আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে ইসরায়েলি মেরকাভা ট্যাঙ্কগুলো সরাসরি গাড়িটির পাশে ছিল এবং কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া যায়নি
📰 বিস্তারিত
২৯ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে গাজা শহরের একটি এলাকা থেকে ইসরায়েলি ইভ্যাকুয়েশন আদেশ অনুসরণ করে পালানোর সময় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবসহ তার পরিবারের সদস্যরা একটি কালো কিয়া গাড়িতে ছিলেন। তার মা উইসাম হামাদা আগেই পায়ে হেঁটে এলাকাটি ছেড়ে যাওয়ার সময় তার মেয়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন।
গাড়িটি বিপজ্জনক এলাকা অতিক্রম করার সময় ইসরায়েলি বাহিনী গাড়িটিতে ৩০০টিরও বেশি গুলি চালায়। এতে ছয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ছিলেন তার ১৫ বছর বয়সী চাচাতো ভাই লায়ান। লায়ান ইমার্জেন্সি ডিসপ্যাচারদের সাথে কথা বলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
আহত হিন্দ রাজাব কয়েক ঘণ্টা ধরে জীবিত ছিলেন এবং ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীদের কাছে ফোনে তার শেষ কথাগুলো বলেছিলেন: “আমি খুব ভয় পেয়েছি… দয়া করে আসুন।” তিনি তার মাকে ফোনে বলেছিলেন, “আমাকে একা ফেলে যেও না, মা। আমি ক্লান্ত। আমি তৃষ্ণার্ত। এবং আমি আহত।”
প্রাথমিক হামলার তিন ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী এম্বুলেন্সে চালানো হয় ১২০ মিলিমিটার ট্যাঙ্ক গোলা, যার ফলে দুই এম্বুলেন্স কর্মী নিহত হন। গ্লোবাল ক্যাম্পেইন গ্রুপ অ্যাভাজের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে প্রাথমিক হামলা এবং এম্বুলেন্সে হামলার মধ্যে তিন ঘণ্টা সময় ছিল, যার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার যথেষ্ট সময় ছিল। অ্যাভাজের আইনি পরিচালক সারাহ অ্যান্ড্রু বলেছেন, “আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে এটি দ্বৈত আক্রমণের আরেকটি ঘটনা।”
সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হিন্দ রাজাব তার আঘাতের কারণে মারা যান। তিনি তখনও গাড়ির ভেতরে ছিলেন, চারপাশে ছিল তার পরিবারের সদস্যদের মৃতদেহ।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল যে তাদের সৈন্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না এবং পরবর্তীতে গাড়িতে পাওয়া ৩৩৫টি গুলির ছিদ্রকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সাথে ক্রসফায়ারের ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করে। তবে আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন “মা খাফিয়া আতহাম” (টিপ অফ দ্য আইসবার্গ) এবং হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনের যৌথ অনুসন্ধানে নতুন প্রমাণ উঠে আসে।
স্যাটেলাইট ইমেজারি এবং অডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্তকারীরা ইসরায়েলি মেরকাভা ট্যাঙ্কগুলোকে সরাসরি গাড়িটির পাশে অবস্থান করতে দেখতে পান। কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে “ভ্যাম্পায়ার এম্পায়ার” নামে একটি কোম্পানির নাম উঠে আসে, যেটি ইসরায়েলি মেজর শন গ্লাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এই কোম্পানিটি ৫২তম আর্মার্ড ব্যাটালিয়নের অধীনে পরিচালিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল ড্যানিয়েল এলা। ঘটনাস্থলের প্রধান কমান্ডার ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল বেনি আহারন, যিনি ৪০১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের অধীনস্থ ছিলেন।
“আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে এটি দ্বৈত আক্রমণের আরেকটি ঘটনা।”
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে ইসরায়েলি-আর্জেন্টিনীয় দ্বৈত নাগরিক ইতাই চৌকিরকভ এবং স্বঘোষিত “যুদ্ধ প্রভাবশালী” শিমন জাকারম্যানের ভূমিকা রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টগুলো গণহত্যার অভিপ্রায়ের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা শহর, ফিলিস্তিন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হিন্দ রাজাব (৫ বছর), লায়ান (১৫ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ (গুলি), ৩৩৫ (গুলি ছিদ্র), ১২০ মিলিমিটার (ট্যাঙ্ক গোলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!