📌 থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মহীনতা বা অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে চোখ ফোলা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, এমনকি স্থায়ী অন্ধত্বের ঝুঁকিও। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নারীদের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি।
থাইরয়েড গ্রন্থির প্রধান কাজ হলো থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন করা। এই হরমোন দেহের রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন, বিপাকক্রিয়া, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন ক্ষমতার জন্য অপরিহার্য। থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত উৎপাদনকে বলা হয় হাইপার-থাইরয়েডিজম, আর স্বল্প উৎপাদনকে বলা হয় হাইপো-থাইরয়েডিজম। থাইরয়েডজনিত সমস্যায় চোখও আক্রান্ত হতে পারে। এতে চক্ষুকোঠরের মাংসপেশি, ফ্যাট ও অন্যান্য কোষে প্রদাহ ও তরল জমা হয়। এটি একটি অটোইমিউন প্রক্রিয়া, যেখানে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের কোষের বিরুদ্ধেই কাজ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 থাইরয়েডজনিত চোখের সমস্যায় চক্ষুকোঠরের মাংসপেশি ও ফ্যাটে প্রদাহ দেখা দেয়
- 📌 চোখের মাংসপেশি ফুলে ওঠা এবং অপটিক নার্ভে চাপ সৃষ্টি হলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে
- 📌 প্রোপ্টোসিস হলো চোখ সামনের দিকে ঠেলে বের হয়ে আসা অবস্থা
- 📌 থাইরয়েডজনিত চক্ষুরোগে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, দ্বৈত দৃষ্টি ও লালচে ভাব দেখা দেয়
- 📌 নারীদের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি
- 📌 ধূমপায়ীদের ঝুঁকি দ্বিগুণ
- 📌 সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন
📰 বিস্তারিত
থাইরয়েডজনিত চোখের সমস্যায় প্রাথমিকভাবে চক্ষুকোঠরের মাংসপেশি ও ফ্যাটে প্রদাহ দেখা দেয়। এই প্রদাহের ফলে মাংসপেশিগুলো কয়েক গুণ ফুলে ওঠে, যা মায়োপ্যাথি নামে পরিচিত। ক্রমবর্ধিষ্ণু মাংসপেশি অপটিক নার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, ফলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়। একে অপটিক নিউরোপ্যাথি বলা হয়। এটি একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা, যার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থায়ী অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।
চক্ষুকোঠরে স্থান সংকুলানের ঘাটতির কারণে চক্ষুগোলক সামনের দিকে ঠেলে বের হয়ে আসে, যা প্রোপ্টোসিস নামে পরিচিত। এছাড়া চোখ শুকিয়ে যাওয়া, দ্বৈত দৃষ্টি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাইরয়েডজনিত চক্ষুরোগের প্রাথমিক দুই-তিন বছর পর্যন্ত এটি সক্রিয় থাকে, পরে তা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
অধ্যাপক ডা. মো. ছায়েদুল হক, চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন, মার্কস মেডিক্যাল কলেজ, মিরপুর, ঢাকা জানান, থাইরয়েডজনিত চক্ষুরোগের চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে মায়োপ্যাথি, অপটিক নিউরোপ্যাথি বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, রেডিওথেরাপি এমনকি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
"থাইরয়েডজনিত চক্ষুরোগ প্রাথমিকভাবে দুই-তিন বছর সক্রিয় থাকে। পরবর্তী সময়ে এটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কৃত্রিম অশ্রু ব্যবহারের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে স্টেরয়েড, রেডিওথেরাপি বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. মো. ছায়েদুল হক
- 🔢 ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি: নারীরা (পুরুষের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি), ধূমপায়ীরা (ঝুঁকি দ্বিগুণ)
- 🔢 সাধারণ আক্রান্ত বয়সসীমা: ৩০ থেকে ৬০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!