📌 ইরানের সামরিক মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী মার্কিন সম্পদ ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করার হুমকি দিয়েছেন। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরান আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সাতটি শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে
ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদে হামলা করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা শুরু করে, তাহলে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত বস্তুগত ও অবস্তুগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে। এই হুমকি দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরে বিশ্বব্যাপী ঘাঁটিতে মোতায়েন বাহিনী ও সরঞ্জাম থাকায়, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করবে যদি আবার হামলা হয়।
- 📌 ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি রাশিয়া সফরে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সাতটি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করবে না এবং কোনো আলোচনাতেও বসবে না।
- 📌 ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। লেবানন ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েল ও সৌদি আরবের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
- 📌 ট্রাম্প মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, “আমাদের শত্রুপক্ষের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরেও অনেক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেসব ঘাঁটিতে তাদের সরঞ্জাম ও বাহিনী মোতায়েন আছে। যদি ফের ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা ঘটে, তাহলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা না করে, অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন শত্রুর সমস্ত বস্তুগত ও অবস্তুগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।”
মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টা জোরদার করছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, “কূটনীতির ক্ষেত্রে আমরা আমেরিকানদের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছি। যতক্ষণ না তারা আমাদের এই সাতটি শর্ত পূরণ করছে, ততক্ষণ আমরা হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করব না, কোনো আলোচনাতেও বসব না।” এই সাতটি শর্তের মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একই সময়ে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি এই সংঘাত ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সেখান থেকে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
"আমাদের শত্রুপক্ষের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বাইরেও অনেক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেসব ঘাঁটিতে তাদের সরঞ্জাম ও বাহিনী মোতায়েন আছে। যদি ফের ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা ঘটে, তাহলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা না করে, অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন শত্রুর সমস্ত বস্তুগত ও অবস্তুগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, রাশিয়া, ইসরায়েল, সৌদি আরব, লেবানন, ইয়েমেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া, মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি, ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ ফেব্রুয়ারি (ইরানে সামরিক অভিযান শুরু), ০৬ নভেম্বর (হুমকি দেওয়া তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!