📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাঁচ মাস পার হলেও ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে না। তবে ইরানের সংবিধান ও ইতিহাস প্রমাণ করে, শাসন টিকিয়ে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও সংঘাত অবসানের কোনো চুক্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা চলমান নেই। একদিকে তেহরান থেকে অব্যাহত প্রতিশোধের হুমকি আসছে, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর মতাদর্শের কারণে ইরান কোনো সমঝোতায় আসতে পারবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে না
- 📌 ইরানের সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাই প্রধান লক্ষ্য
- 📌 ইরানের সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি ১৯৮৮ সালে ঘোষণা দেন, ইসলামি সরকারের অবস্থান নামাজ ও রোজার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ
- 📌 ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে, যদি তা তাদের শাসন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হয়
📰 বিস্তারিত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা চলমান নেই। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কঠোর মতাদর্শের কারণে তারা কোনো সমঝোতায় আসতে পারবে না। এই ধারণার বিপরীতে ইরানের সংবিধান ও সাম্প্রতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র কেবল মতাদর্শ দ্বারা পরিচালিত হয় না। দেশটির শাসনকাঠামো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে দ্বিধাবোধ করবে না, যদি তা তাদের মূল নীতি তথা ‘শাসনের টিকে থাকা’ নিশ্চিত করে।
ইরানের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থান সর্বজনীন নয়; বরং পরিস্থিতিভিত্তিক। তারা নিজেদের ওপর আধিপত্য বিস্তারকে বাধা দেয়, কিন্তু সব ধরনের আধিপত্যের বিরোধিতা করে না। দেশটির ‘অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা’ নীতির কারণে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনে প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। এসব অঞ্চলে ইরান নিজেদের নিরাপত্তাকে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার নীতিকে ‘হেফজে নেজাম’ বলা হয়। ১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি ঘোষণা দেন, ইসলামি সরকারের অবস্থান নামাজ, রোজা ও হজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি ‘ভেলায়েতে ফকিহ’ সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অবসান ঘটান। পরের মাসে তিনি নতুন প্রশাসনিক সংস্থা গঠনের নির্দেশ দেন, যার কাজ ছিল পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অচলাবস্থা দূর করে ব্যবস্থার মূল স্বার্থ রক্ষা করা। ১৯৮৯ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই নীতি ১১২ অনুচ্ছেদ হিসেবে স্থায়ী রূপ পায় এবং গঠিত হয় ‘এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল’।
"ইরানের নীতি কাজ করে দুটি ধাপে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বিরোধিতা এবং মিত্রদের সমর্থন দেওয়া হয়। কিন্তু এর ওপরেই রয়েছে দ্বিতীয় ও প্রধান ধাপ: ‘হেফজে নেজাম’ বা শাসনব্যবস্থার সুরক্ষা। ব্যবস্থার সুরক্ষার জন্য প্রথম ধাপের যেকোনো নীতি বদল করা সম্ভব। টিকে থাকাই আসল কথা; সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা কেবল একটি সুরক্ষাকবচ। প্রয়োজনে সেই ঢিল ঢিলে করা যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্বাস আরাগচি, রুহুল্লাহ খোমেনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১২ (অনুচ্ছেদ), ৫ (মাস), ২৮ (ফেব্রুয়ারি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!