📌 ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে খামেনির একটি গোপন বার্তা হস্তান্তর করেন। আলোচিত হয় আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ, গ্যাসপাইপলাইন প্রকল্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি শর্ত। রাশিয়া ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি গোপন বার্তা হস্তান্তর করেন ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়ি। গত বৃহস্পতিবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **গোপন বার্তা হস্তান্তর**: মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রেজায়ি খামেনির একটি গোপন বার্তা হস্তান্তর করেন। খামেনি রেজায়িকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুতিনের কাছে বার্তাটি দ্রুত পৌঁছে দিতে।
- 📌 **আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি আলোচনা**: পুতিনের সঙ্গে আলোচিত হয় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি শর্ত।
- 📌 **গ্যাসপাইপলাইন প্রকল্প**: রাশিয়া-ইরান গ্যাসপাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের আলোচনা হয়। ইরানের গ্যাসসংকট মোকাবিলা ও রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
- 📌 **রাশিয়ার সহায়তা প্রতিশ্রুতি**: পুতিন রেজায়িকে বলেন, ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় রাশিয়া পুরোপুরি সহায়তা করবে।
- 📌 **আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা**: রেজায়ি পুতিনকে জানান, ইরান-সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চীনসহ বন্ধুদের সঙ্গে একমত হয়েছে।
- 📌 **যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রভাব**: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- 📌 **ইরানের সাতটি শর্ত**: যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালি খুলবে না ও আলোচনায় বসবে না।
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার মস্কোর সিনেট প্যালেসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রেজায়ি পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর তিনি বলেন, “আমরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। ইরানের গ্যাসসংকট মোকাবিলা ও রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানির সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে গ্যাসপাইপলাইন প্রকল্পের আলোচনা হয়।”
রেজায়ি জানান, খামেনি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুতিনের কাছে বার্তাটি দ্রুত পৌঁছে দিতে। তবে তিনি বলেননি, বার্তায় কী বলা হয়েছে। খামেনির একটি লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণের কোনো মনোভাব ইরানের থাকা উচিত নয়। তিনি ইরানকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় কাতার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এই পরাজয়ের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে দায়ী করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, ইরানের বন্দর অবরোধ ও পারমাণবিক কর্মসূচি। রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালি খুলবে না ও আলোচনায় বসবে না। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বৈঠকে রেজায়ি পুতিনকে জানান, ইরান-সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চীনসহ বন্ধুদের সঙ্গে একমত হয়েছে। তিনি বলেন, “বাইরের দেশগুলোর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।”
"আমরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়ে আমরা আমাদের চীনা বন্ধুদের সঙ্গে একমত। এ ক্ষেত্রে বাইরের দেশগুলোর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।"
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, তুরস্ক ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুত্ব পেয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মস্কো (রাশিয়া), তেহরান (ইরান), ওয়াশিংটন (যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহসেন রেজায়ি (ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান), ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট), আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি (ইরানের সর্বোচ্চ নেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ (যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি শর্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!