📌 ইরানের সরকার দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার জনগণের উপর ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করতে চাইছে
তেহরান, ইরান – মার্কিন অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ইরানের সরকার দেশটির জনগণের উপর দেওয়া জ্বালানি তেলের ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির ৯ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার জন্য সরকারের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।
- 📌 মার্কিন অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে রয়েছে।
- 📌 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানের জিডিপি ৫.৪ শতাংশ হ্রাস পাবে।
- 📌 ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশটি সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত এবং সরকার জনগণের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছে।
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাধিক অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
- 📌 ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান কমে ২০ লাখ রিয়াল এক মার্কিন ডলারের সমান হয়েছে।
- 📌 ইরানে জ্বালানি তেলের মূল্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।
- 📌 সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের জন্য ১৩ লাখ রিয়াল ভর্তুকি দিচ্ছে।
- 📌 ইরানের জনগণকে দেওয়া জ্বালানি তেলের ভর্তুকি সরকারের জন্য একটি বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 সরকার তিনটি বিকল্প বিবেচনা করছে: প্রথম-আসলে-প্রথম-সেবা ব্যবস্থা, সর্বনিম্ন মূল্যে সকল ইরানিকে জ্বালানি সরবরাহ, অথবা জ্বালানি বিক্রির পরিমাণ হ্রাস।
📰 বিস্তারিত
ইরানের সরকার দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার এক ভাষণে জানিয়েছেন, দেশটি সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত এবং সরকার জনগণের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, "আমরা বুঝতে পারি সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে জনগণ কষ্ট না পায়, কিন্তু শত্রু দেশগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে আমরা সফল না হতে পারি।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাধিক অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের হুমকি দেওয়ার পর ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান কমে ২০ লাখ রিয়াল এক মার্কিন ডলারের সমান হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানের জিডিপি ৫.৪ শতাংশ হ্রাস পাবে।
ইরানে জ্বালানি তেলের মূল্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের জন্য ১৩ লাখ রিয়াল ভর্তুকি দিচ্ছে। সর্বনিম্ন মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ করা হয় প্রতি লিটার ১৫ হাজার রিয়ালে। ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য তিনটি মূল্য স্তর রয়েছে: প্রতি লিটার ১৫ হাজার, ৩০ হাজার ও ৫০ হাজার রিয়াল। সরকারি অর্থের উপর এই ভর্তুকি বিশাল চাপ সৃষ্টি করছে।
সরকার তিনটি বিকল্প বিবেচনা করছে। প্রথম বিকল্প হলো প্রথম-আসলে-প্রথম-সেবা ব্যবস্থা, যেখানে মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে কিন্তু পাম্প স্টেশনগুলো তাদের বরাদ্দকৃত পেট্রোল শেষ হয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যাবে। দ্বিতীয় বিকল্প হলো সকল ইরানিকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লিটার জ্বালানি সর্বনিম্ন মূল্যে সরবরাহ করা। তৃতীয় বিকল্প হলো জ্বালানি বিক্রির পরিমাণ হ্রাস করা।
"আমরা বুঝতে পারি সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে জনগণ কষ্ট না পায়, কিন্তু শত্রু দেশগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে আমরা সফল না হতে পারি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ কোটি ৩০ লাখ (জনসংখ্যা), ৫.৪ শতাংশ (জিডিপি হ্রাস), ২০ লাখ রিয়াল (এক মার্কিন ডলারের সমান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!