📌 গাজীপুরের সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতের বনতারা কেন্দ্রের সাথে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও বাংলাদেশের বন বিভাগ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাণীদের পরিচয় যাচাই করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গাজীপুরের শ্রীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি রিং-টেইলড লেমুরের পরিচয় যাচাই করতে বাংলাদেশের বন বিভাগ ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিচ্ছে। ভারতের গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত বনতারা কেন্দ্রের সাথে কোনো সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও, সেখানে প্রাণীদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ ডিএনএ প্রোফাইল চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর দুটি** ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সিআইডি তদন্তে জানা গেছে
- 📌 **ভারতের বনতারা কেন্দ্রের সাথে কোনো যোগাযোগ বা লেনদেন নেই** — তারা বাংলাদেশের কোনো অনুরোধ পায়নি
- 📌 **ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় পরিচয় যাচাইতে জটিলতা** — গাজীপুর সাফারি পার্কে আগে থেকে কোনো ডিএনএ রেকর্ড ছিল না
- 📌 **বন বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে** — ডিএফওকে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
- 📌 **২০২৫ সালের নভেম্বরে চুরি হওয়া লেমুর দুটির মামলায়** বর্তমানে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছে
📰 বিস্তারিত
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুরের অবস্থান ভারতের বনতারা কেন্দ্রে শনাক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের বন বিভাগ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাণীদের পরিচয় যাচাই করার উদ্যোগ নিচ্ছে। বনতারা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির গড়া এই কেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার একর জমিতে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন করা হয়। তবে বনতারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের কোনো তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে কোনো নোটিশ বা অনুরোধ পায়নি।
সিআইডির তদন্তে জানা গেছে, চুরি হওয়া লেমুর দুটির পরিচয় যাচাই করতে ডিএনএ প্রোফাইল চাওয়ার প্রয়োজন পড়েছে। কিন্তু গাজীপুর সাফারি পার্কে আগে থেকে কোনো ডিএনএ রেকর্ড ছিল না। বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী জানান, তাদের ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, "সব প্রাণীর না হলেও মূল্যবান প্রাণীগুলোর অন্তত ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা উচিত। লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে থাকলে বর্তমানে প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করে দাবি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হতো।"
গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা লেমুরগুলো ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্য প্রাণীর সঙ্গে জব্দ করা হয়েছিল। পরে বন বিভাগের নির্দেশে সেগুলো সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। পার্কে থাকা লেমুরের মধ্যে ছানাও জন্ম নেয়। ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি লেমুর মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুটি লেমুর চুরি হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
"সব প্রাণীর না হলেও মূল্যবান প্রাণীগুলোর অন্তত ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা উচিত। লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে থাকলে বর্তমানে প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করে দাবি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হতো।"
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বলেন, বন্য প্রাণী চোরাচালান শনাক্ত ও পাচার হওয়া প্রাণী দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, একই প্রজাতির অনেক প্রাণী থাকলে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণী কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা কার্যকর।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর সাফারি পার্ক (শ্রীপুর), ঢাকা; বনতারা কেন্দ্র (জামনগর, গুজরাট, ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ছানাউল্যা পাটওয়ারী (বন সংরক্ষক), মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি, মনিরুল এইচ খান (বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ আগস্ট ২০১৮, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, নভেম্বর ২০২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!