📌 ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে এক শিক্ষকের চড় খেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে আবারও শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকতা আইনে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকলেও গ্রামাঞ্চলে এর প্রচলন রয়ে গেছে
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের চড় খেয়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে আবারও শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার সময় শিশুটির বাবা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের চড় খেয়ে ছয় বছর বয়সী প্রণয় তেজার মৃত্যু
- 📌 শ্রেণিকক্ষে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষিকা শিশুটিকে চড় মারার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে পড়ে যান
- 📌 বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বারবার শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার
- 📌 ভারতের শিক্ষা অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে বিদ্যালয়ে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ হলেও গ্রামাঞ্চলে এর প্রচলন রয়ে গেছে
- 📌 ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীমতি কৃষ্ণা প্রসাদ নামে এক ব্যক্তির কাছে তার ছয় বছর বয়সী ছেলে প্রণয় তেজার বিদ্যালয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর আসে। শ্রমিক শ্রীমতি প্রসাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শিশুটিকে রাজা জর্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রেণিকক্ষে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রণয় তেজা নামের শিশুটি শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শিক্ষিকা তাকে চড় মারেন। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটি মাটিতে পড়ে যান। অন্য শিক্ষকরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির পরিবার জানায়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বারবার শিশুদের শারীরিক শাস্তি দিয়ে আসছিল। ঘটনার পর অন্ধ্রপ্রদেশের বিদ্যালয় শিক্ষা অধিদপ্তর ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বেদনাদায়ক” বলে অভিহিত করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ভারতের বিদ্যালয় শিক্ষা অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে বিদ্যালয়ে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ হলেও গ্রামাঞ্চলে এর প্রচলন রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দিল্লির নিকটবর্তী গুরুগ্রামের দরিদ্র পরিবারের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ শিশু প্রতি সপ্তাহে কয়েকবার করে মারধরের শিকার হয়। অধিকাংশ অভিভাবকই এ ধরনের শাস্তিকে সমর্থন করেন এবং নিজেরাও সন্তানদের মারধর করেন।
"অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বেদনাদায়ক"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশাখাপত্তনম, অন্ধ্রপ্রদেশ, ভারত
- 👥 ঘটনার মুখ্য ব্যক্তি: প্রণয় তেজা (৬ বছর), শিক্ষিকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: শতকরা ৮০ ভাগ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!