📌 ভারতের তেলেঙ্গানায় প্রধান শিক্ষিকা কাল্লু রুপা রেড্ডিকে অর্থের লোভে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরই দুই ছাত্র পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ২৭ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পুলিশ তদন্তে হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের নালগোন্ডা জেলার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও পরিচালক কাল্লু রুপা রেড্ডিকে হত্যার ঘটনায় তাঁরই দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অর্থ ও বিলাসী জীবনের লোভে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারতের তেলেঙ্গানায় প্রধান শিক্ষিকা কাল্লু রুপা রেড্ডিকে তাঁরই দুই ছাত্র ২৭ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে
- 📌 হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থী গত কয়েক দিনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছিল ও পার্টি করছিল
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায় এবং প্রমাণ লুকাতে রক্তমাখা কাপড় মাটিতে পুঁতে ফেলে
- 📌 পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার রুপি, একটি আইফোন ও মৃত শিক্ষিকার ফোন উদ্ধার করেছে
📰 বিস্তারিত
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের নালগোন্ডা জেলার কোন্ডামাল্লেপল্লির নাগার্জুনা পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও পরিচালক ছিলেন কাল্লু রুপা রেড্ডি (৪৮)। তাঁর স্বামী ঘটনার দিন রাজধানী হায়দরাবাদে ছিলেন। ফোনে স্ত্রীকে না পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানালে পুলিশ রুপা রেড্ডির মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর শরীরে পাওয়া যায় ২৭টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন।
ঘটনা তদন্তে পুলিশ পাঁচটি দল গঠন করে। সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক প্রমাণ, আঙুলের ছাপ ও কারিগরি তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ৮০ জনের বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ফোন বন্ধ হওয়ার আগে রুপা রেড্ডি তাঁর আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং শেষ শব্দ হিসেবে ‘বাবু’ উচ্চারণ করেছিলেন। এরপর পুলিশ স্কুলের ছাত্রদের দিকে নজর দেয়।
পুলিশ দশম শ্রেণির পাঁচজন ছাত্রকে শনাক্ত করে, যারা ঘটনার দিন স্কুলে অনুপস্থিত ছিল। দেখা যায়, তাদের মধ্যে দুজন গত কয়েক দিনে প্রচুর অর্থ খরচ করছে ও পার্টি করে বেড়াচ্ছে। বুধবার সকালে ওই দুই ছাত্রকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করে, পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা রুপা রেড্ডিকে হত্যা করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা শরৎ চন্দ্র পাওয়ার জানান, হোস্টেলের ব্যাগে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন পাওয়ার পর রুপা রেড্ডি ওই দুই ছাত্রকে একবার শাসন করেছিলেন। বিষয়টি তাদের অভিভাবকদেরও জানানো হয়েছিল। পরে তাদের হোস্টেল থেকে সরিয়ে বাসা থেকে স্কুলে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশের ধারণা, এতে প্রধান শিক্ষিকার প্রতি তাদের ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
অভিযুক্তরা পাঁচ দিন ধরে চুরির পরিকল্পনা করে এবং রুপা রেড্ডির বাড়ির আশপাশ ঘুরে দেখে। ছুরি কেনার পাশাপাশি পরিচয় লুকাতে তারা গ্লাভস কেনে। হত্যাকাণ্ডের দিন এক ছাত্র পুরো মুখ ঢাকার টুপি ও গ্লাভস পরে ঘরে ঢোকে। শোবার ঘরে রাখা আড়াই লাখ রুপি পেয়ে সে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সে ছুরি দিয়ে রুপা রেড্ডিকে ২৭ বার আঘাত করে।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা নগদ অর্থ নিয়ে নেয় এবং রক্তমাখা কাপড় ও মাঙ্কি টুপি মাটিতে পুঁতে ফেলে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করে। এরপর তারা গোয়া ভ্রমণে যায়। পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার রুপি (যার কিছু নোটে রক্তের দাগ ছিল), একটি আইফোন এবং রুপা রেড্ডির ফোন উদ্ধার করে। তদন্তে আরও জানা গেছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে ওই দুই ছাত্র ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে ‘কীভাবে দ্রুত টাকা আয় করা যায়’ লিখে সার্চ করেছিল।
"ফোনে কথা বলার সময় তাঁর রেকর্ড হওয়া শেষ শব্দটি ছিল ‘বাবু’। তিনি কাকে উদ্দেশে করে এটি বলেছিলেন, তা তদন্ত করতে গিয়ে আমরা স্কুলের ছাত্রদের দিকে নজর দিই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নালগোন্ডা জেলা, তেলেঙ্গানা রাজ্য, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাল্লু রুপা রেড্ডি (প্রধান শিক্ষিকা), দুই শিক্ষার্থী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ বার ছুরিকাঘাত, ৪৮ বছর বয়স, ৮০ জনের বেশি জিজ্ঞাসাবাদ, ১ লাখ ৫৪ হাজার রুপি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!