📌 আইআইটি মুম্বাইতে পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের অভিযোগে আত্মহত্যা করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়। পরিবার দাবি করেছে, জাতবৈষম্য ও হেনস্তার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তথ্য প্রকাশে অস্বচ্ছতা
আইআইটি মুম্বাইয়ের একটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের অভিযোগে ধরা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে পরিবার দাবি করেছে, জাতবৈষম্য ও লম্বা সময় ধরে চলা হয়রানির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাহিল ওয়াকোড় নামের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আইআইটি মুম্বাইয়ের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- 📌 পরিবার দাবি করেছে, তিন মাস ধরে ক্যাম্পাসে জাতবৈষম্য ও হেনস্তা করা হতো সাহিলকে। তাঁকে ‘নিচু জাতের’ বলে মন্তব্য করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- 📌 পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এজাহারে পরিচালক শিরীষ বি কেদারে-সহ একাধিক অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 পরীক্ষার সময় মোবাইল ব্যবহার করতে ধরা পড়ার পর সাহিল আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবার দাবি করেছে, কর্তৃপক্ষের হুমকি ছিলো এক বছরের সাসপেনশন।
- 📌 গত সাত মাসে এই ঘটনা তৃতীয়। আগে দু’জন শিক্ষার্থীও আত্মহত্যা করেছেন।
📰 বিস্তারিত
আইআইটি মুম্বাইয়ের শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়ের পরিবার দাবি করেছে, তাঁকে জাতবৈষম্য ও হেনস্তার শিকার করা হয়েছিল। সাহিলের বাবা জানান, তাঁর ছেলেকে তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হতো। তাঁকে ‘নিচু জাতের’ বলে মন্তব্য করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো পরিচালকের নির্দেশেই ঘটছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
সাহিল সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে আইআইটি মুম্বাইতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথম বর্ষে কোনো সমস্যা হয়নি, কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষে পরিস্থিতি বদলে যায়। গত তিন মাসের লাগাতার হেনস্তার কারণে সাহিল আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। সাহিলের মা বলেছেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁকে মারাত্মকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়েন সাহিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করে উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পর হোস্টেলের কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোর্স প্রশিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান তাঁকে কাউন্সিলিং দিয়েছিলেন এবং আশ্বস্ত করেছিলেন যে এই ঘটনার প্রভাব তাঁর শিক্ষাজীবনে পড়বে না।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি, কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রকাশ অস্বচ্ছ। তারা দাবি করেছেন, সাহিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই হুমকির কারণে তাঁকে হোস্টেল ছেড়ে যেতে হতো এবং পড়াশোনা চার বছরেরও বেশি সময় পিছিয়ে যেত। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এই হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ ঘটনায় পুলিশ আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে। এজাহারে পরিচালক শিরীষ বি কেদারে-সহ একাধিক অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিন পরীক্ষার হলে পাহারার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা। তাঁর বিরুদ্ধেও জাত তুলে সাহিলকে হেনস্তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, আইআইটি মুম্বাই কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রকাশ অস্বচ্ছ। তারা দাবি করেছেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি দাবি করছি। এই ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়।’
এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত সাত মাসের মধ্যে আইআইটি মুম্বাই ক্যাম্পাসে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসে দু’জন শিক্ষার্থীও আত্মহত্যা করেছেন।
"আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁকে মারাত্মকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আইআইটি মুম্বাই, মুম্বাই, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাহিল ওয়াকোড় (বাংলাদেশি শিক্ষার্থী), সাহিলের বাবা, সাহিলের মা, পরিচালক শিরীষ বি কেদারে, অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর বয়স, ৩ মাস (হেনস্তার সময়কাল), ৩টি আত্মহত্যা (গত সাত মাসে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!