📌 হুথি বিদ্রোহীরা তাজ প্রদেশে আক্রমণ শুরু করলে আবারও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন যেমেনির লক্ষ লক্ষ মানুষ। শরণার্থী আব্দুল্লাহ সাইদ বলেছেন, তারা দ্বিতীয়বারের মতো পালাতে বাধ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক আক্রমণে ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শরণার্থী শিবিরেও যুদ্ধের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
হুথি বিদ্রোহীরা যেমেনের তাজ প্রদেশে আক্রমণ শুরু করলে আবারও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। শরণার্থী আব্দুল্লাহ সাইদ (৪৭) বলেছেন, তিনি ২০২২ সালে নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আল-রাহাবাহ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে ৩০০টি পরিবার সহ তিনি শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছিলেন। কিন্তু হুথিরা শুধু তাজ প্রদেশেই নয়, মাওজা ও জাবাল হাবাশি জেলায়ও আক্রমণ চালিয়ে দিয়েছে, যা আবারও বাস্তুচ্যুতির নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আব্দুল্লাহ সাইদ (৪৭) বলেছেন, রাতের আক্রমণে তারা শিবিরের নিকটে যুদ্ধের শব্দ শুনতে পেয়েছেন এবং শিবির থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
- 📌 হুথিরা মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে, এরপর জমিনে যুদ্ধ শুরু হয়, যা ২০২২ সালের পর থেকে সবচেয়ে তীব্র।
- 📌 ৩০০টি পরিবার সহ শরণার্থীরা দ্বিতীয়বারের মতো পালিয়ে যাচ্ছেন, অনেকে প্রথমবারের মতো বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।
- 📌 সৌদি-পৃষ্ঠপোষক সরকারী বাহিনী কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে, কিন্তু হুথিরা এখনও তাজ প্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় অগ্রসর হয়েছে।
- 📌 হুথিরা মক্কা বন্দর আক্রমণ করে, যা রেড সি উপকূলের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করবে।
📰 বিস্তারিত
আব্দুল্লাহ সাইদ বলেছেন, “রাতে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে ছিলাম, কিন্তু সকালে আমরা শিবিরের নিকটে যুদ্ধের শিবির দেখতে পেয়েছি। আর কোনো বিকল্প ছিল না, আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে গিয়েছি।” তিনি ২০২২ সালে যুদ্ধের মধ্যে ফাঁসা হয়ে থাকার খুব খারাপ অভিজ্ঞতা ছিল, তাই তিনি শিবিরে যুদ্ধের আগেই পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
সাইদ আরও বলেছেন, “আমরা দ্বিতীয়বারের মতো পালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এবারও অনেক পরিবার প্রথমবারের মতো বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আমরা সবাই আশ্রয় এবং প্রাথমিক পরিষেবার জন্য খুবই দরিদ্র অবস্থায় আছি।” তিনি বর্তমানে আত্মীয়দের শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
হুথিরা ২০১৪ সাল থেকে যেমেনের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে এবং সানা সহ উত্তর-পশ্চিম যেমেনের বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নিয়েছে। আগস্টের শুরু থেকে হুথিরা মিসাইল, ড্রোন এবং জমিনের আক্রমণ চালিয়ে আসছে, যা মারিব, তাজ, হুদাইদা এবং আল-দাহলে প্রদেশে সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে। হুথিরা রেড সি উপকূলের মক্কা বন্দর আক্রমণ করে, যা সৌদি নৌযান আক্রমণের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষক সরকারী বাহিনী হুথির বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। তবে হুথিরা এখনও তাজ প্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় অগ্রসর হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধে উভয় পক্ষের লোকদের মৃত্যু হয়েছে। এই সংঘাতের ফলে সৌদি আরব আবারও হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা চার বছর আগে তাদের শেষবারের মতো যেমেনে হস্তক্ষেপ করেছিল।
"আমি কোনো সামরিক পক্ষের সমর্থন করি না, কিন্তু আমি আশা করি যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে এবং আমরা আমাদের শিবিরে ফিরে যেতে পারব। আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শান্তি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তাজ প্রদেশ, যেমেন (মাকবানাহ, মাওজা, জাবাল হাবাশি জেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল্লাহ সাইদ (৪৭), শরণার্থী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ কিলোমিটার দূরে শরণার্থী শিবির, ৩০০টি পরিবার, ২০২২ সাল থেকে যুদ্ধের তীব্রতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!